যশোরের পোলট্রি শিল্পে করপোরেট সিন্ডিকেটের থাবা

যশোরের পোলট্রি শিল্পে করপোরেট সিন্ডিকেটের থাবা

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

একসময়ের লাভজনক পোলট্রি শিল্প এখন যশোরের হাজার হাজার ক্ষুদ্র খামারির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুরগির একদিনের বাচ্চা, খাদ্য (ফিড) এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোর একক আধিপত্য ও সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিরা এখন অস্তিত্ব সংকটে। পুঁজি হারিয়ে অনেক খামারি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে।

​যশোর জেলা পোলট্রি খামারিদের অন্যতম বড় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে স্থানীয় খামারিদের মতে, গত এক বছরে জেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ঝিকরগাছা, মণিরামপুর, কেশবপুর এবং চৌগাছা উপজেলার বহু বেকার যুবক যারা খামার গড়ে স্বাবলম্বী হতে চেয়েছিলেন, তারা এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

​যশোরের খামারিরা অভিযোগ করেছেন, একটি একদিনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় মাত্র ২৭ থেকে ৩৩ টাকা। অথচ কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সেই বাচ্চা খামারিদের কাছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি করছে। একজন খামারি জানান, “৮৫ টাকায় বাচ্চা কিনে, চড়া দামের খাবার ও ওষুধ খাইয়ে একটি মুরগি বিক্রয়যোগ্য করতে যে খরচ হয়, বাজারে সেই দামে মুরগি বিক্রি করা যাচ্ছে না।” অনেক ক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলো ডিলারদের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা বা দাদন দিয়ে খামারিদের জিম্মি করে রাখছে।

​বাচ্চার দামের পাশাপাশি মুরগির খাবারের (ফিড) দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতি বস্তা ফিডের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম একটু বাড়লেই হইচই শুরু হয়, কিন্তু খামারিরা যে লোকসান দিয়ে ১৬০-১৭০ টাকায় মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, সে খবর কেউ রাখে না।

​স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ ক্ষুদ্র খামারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘বায়োসিকিউরিটি’ বা জৈব সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক সময় মড়ক লেগে খামারিরা সর্বস্বান্ত হন। তবে খামারিদের দাবি, বাচ্চার দাম ও ফিডের দাম যদি সরকার নিয়ন্ত্রণে না আনে, তবে শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে এই শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

​যশোরের পোলট্রি শিল্পকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। খামারিদের দাবি—

১. কোম্পানি ও খামারি প্রতিনিধিদের সাথে বসে বাচ্চার একটি স্থায়ী দাম নির্ধারণ করতে হবে।

২. ফিডের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *