ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
ঢাকা থেকে আনন্দ নিয়ে নিজের চেনা শিকড় যশোরে ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক নিমেষেই ওলটপালট হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। এক লহমায় কেড়ে নিল পাঁচটি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে ৪ জনই যশোরের একই পরিবারের সদস্য। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) ঢাকা-যশোর মহাসড়কের ফরিদপুর ভাঙ্গা এলাকায় এই মরণঘাতী ও বর্বরোচিত সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। চিরদিনের জন্য নিভে গেছে চারজন আপন মানুষের জীবনের আলো, আর অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে দুই অবুঝ শিশু। একই পরিবারের চার-চারজন সদস্যের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আজ দুপুরে যখন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কুশলনগর গ্রামে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি ও শোকের মাতম সৃষ্টি হয়। স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি আর কান্নায় কুশলনগরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। গাড়িটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মহাসড়কের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পিছন দিক দিয়ে ধাক্কা দিলে প্রাইভেট কার ধুমড়েমুচড়ে যায়। প্রচণ্ড আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই এবং স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই একে একে পাঁচজনের করুণ মৃত্যু নিশ্চিত হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কুশলনগর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নূরজাহান (৫০), তাঁর দুই স্নেহের সন্তান আরিফ ইসলাম (২৪) ও রাকিব (১৮) এবং একই এলাকার ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম (২৮)। এছাড়া এই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ, যিনি ওই প্রাইভেটকারটির চালক ছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে, এই ভয়াবহ ও হাড়হিম করা ধ্বংসযজ্ঞের ভেতরেও অলৌকিক ও অলৌকিকভাবে অলৌকিক প্রাণরক্ষা পেয়েছে দুই নিষ্পাপ শিশু। তারা হলো—৭ বছর বয়সী আশরাফুল হোসেন এবং মাত্র ৩ বছরের ছোট্ট শিশু তাছফিয়া। তবে প্রাণে বেঁচে গেলেও তারা দুজনেই অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনকভাবে জখম হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুর্ঘটনাকবলিত দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধার করেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজের কাজ শেষে লাশগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝিকরগাছায় তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জোর প্রস্তুতি চলছে। যে প্রাইভেটকারটিতে করে একটু সুখের টানে তারা বাড়ি ফিরছিলেন, সেই গাড়িটিই যে তাদের শেষ ঠিকানা হবে—তা ভাবতেই পারছে না কুশলনগর গ্রামবাসী। ছবি সংগৃহীত।

