রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক,কোটচাঁদপুর ( ঝিনাইদহ): থেকে ফিরে ।। ২৩ মে -২০২৬
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও আংশিক কোটচাঁদপুর) নির্বাচনী এলাকাকে একটি সম্পূর্ণ আধুনিক, যুগোপযোগী, উন্নত ও জনবান্ধব মডেল জনপদে রূপান্তরিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: আবু তালিব। আজ শনিবার (২৩ মে) কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই আসনের চলমান ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের ইতিবাচক ও উন্নয়নমুখী দর্শনের সাথে একাত্ম হয়ে এই আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে একের পর এক মেগা প্রকল্প মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্রের খোলনলচে বদলে দেবে।
মতবিনিময় সভায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে আইডিআরইউপি (IDRIUP) প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা টেকসই কার্পেটিংয়ের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার একটি বিশাল সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। এই মেগা বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ কিলোমিটার গ্রামীণ ও সংযোগ সড়ক পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামোর স্থবিরতা দূর করতে টিআরের ৩০ লক্ষ টাকা, কাবিখটার ২৫ লক্ষ টাকা এবং বিশেষ কোটায় ৪০ টন খাদ্যশস্যের (চাল ও গম) বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দিয়ে গ্রামীণ সড়ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ উপ-প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে কালভার্ট ও ইউ-ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিজ উৎপাদন দ্বিগুণের লক্ষ্যে ব্যাপক জলমহাল সংস্কারের আওতায় মঙ্গলপৈতা এলাকা থেকে ১২ কিলোমিটার নদী খননের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। একই সাথে চিত্রা নদীর পাড় নান্দনিকভাবে বাঁধাই করে কালীগঞ্জ শহর এলাকায় একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসনের সাথে মহাপরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুরো নির্বাচনী এলাকায় ছোট-বড় মোট ২১টি ঐতিহ্যবাহী খাল খননের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এক বিশাল আধুনিকায়নের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনের ১৭টি মাদ্রাসা, ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত চারতলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের বিশাল প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য জোর দিয়ে বলেন, কেবল সুরম্য ভবনের উন্নয়নই নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে নতুন প্রজন্মকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সামাজিক মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতে ১৬০টি মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, ঈদগাহ ও শ্মশানের অবকাঠামোগত সংস্কারের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ন্যূনতম ৩ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নবনির্মিত ১০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জোর প্রচেষ্টা চলছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সমাজ থেকে অন্যায় ও পৈশাচিকতা দূরীকরণে মাদক, সন্ত্রাস ও এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য মো: আবু তালিব অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি সুস্থ, নিরাপদ, শান্ত ও মেধাবী সমাজ গঠনে মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ আপসহীন ও ‘জিরো টলারেন্স’। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের মরণনেশা এবং ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকায় যেকোনো মূল্যে মাদক কারবারি, গডফাদার ও অপরাধী সিন্ডিকেটকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে এবং এ বিষয়ে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি এই সামাজিক আন্দোলন সফল করতে স্থানীয় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক ও সুধী সমাজসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহার এই প্রাক-সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল ও এমপির ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এলাকার হাজার হাজার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি এবং ৩০০টি বিশেষ ফুড প্যাক বিতরণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য মো: আবু তালিব অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের গঠনমূলক ইতিবাচক লেখনীর মাধ্যমে ঝিনাইদহ-৪ আসনকে একটি স্বপ্নের সবুজ ও আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তারা অচিরেই সক্ষম হবেন। ছবি সংগৃহীত।

