মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরা জজ কোর্ট ভবনের মূল ফটকের সামনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ‘জুলাই ছাত্র ঐক্য’এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের পরও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের জামিন প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না। বক্তারা সরকারের কাছে দাবি জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, জুলাই শহীদদের ১০টি পরিবার এ কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছে এবং তাদের প্রত্যাশা, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মুক্তি দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রাঙ্গণে জুলাই যোদ্ধারা জড়ো হতে থাকেন। বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। পরে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে মাগুরা জজকোর্ট প্রাঙ্গণের মূল ফটকে এসে সমবেত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জুলাই যোদ্ধা জুলফিকার আলী।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মাগুরার পারনান্দুয়ালী এলাকায় গুলিতে নিহত হন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি। এ ঘটনায় তার ভাই ইউনুস আলী বাদী হয়ে ১৩ আগস্ট রাতে মাগুরা সদর থানায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সম্প্রতি মামলার দুই আসামি আজিম শেখ (৩০ মার্চ) ও হেদায়েত কোরাইশ (২৩ এপ্রিল) জামিনে মুক্তি পাওয়ায় শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ছবি প্রতিবেদক।


