স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রেখে দলবদ্ধ বা গণধর্ষণের লোমহর্ষক মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ সাতজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে নগদ অর্থদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষ (পিপি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের মাঞ্জালিয়া গ্রামের এক গৃহবধূকে আসামিরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত নির্জন ঘরে আটকে রেখে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এই বর্বরোচিত ও অমানবিক ঘটনার পরদিন ২৬ মে ভুক্তভোগী ওই নারী নিজে বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার এজাহার, পুলিশি প্রতিবেদন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ৮ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন।
আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নিলাখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জসিমউদ্দিন, আসমত ও জুয়েল মিয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অন্যদিকে মামলার অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা ও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলী নামে অপর এক আসামিকে আদালত সসম্মানে খালাস প্রদান করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সকল আসামির বাড়িই বকশীগঞ্জের নিলাখিয়া ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি বর্বরোচিত ও সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়া ঘটনা ছিল। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অকাট্য দালিলিক প্রমাণ ও চিকিৎসকের সনদসহ সাক্ষীদের উপস্থাপন করতে পেরেছিলাম। মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালত এই জঘন্য অপরাধের যে দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন, তাতে সমাজে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে।” রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আসামিদের কড়া পুলিশি পাহারায় জামালপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি সংগৃহীত।

