স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
রাজধানীতে উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি ও ব্যবসায়িক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ভুক্তভোগী এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ২০২৪ সালে পিআরএল-এ থাকাকালীন এই চক্রের খপ্পরে পড়েন। প্রথমে তাকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে মিরপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে ‘অ্যাডমিন ডিরেক্টর’ হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অফিসে গেলে তার জীবনবৃত্তান্ত দেখে চাকরি নিশ্চিত করা হয়। এরপর কৌশলে তাকে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে মাত্র এক সপ্তাহে ২০ শতাংশ লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রলোভনে পড়ে তিনি ধাপে ধাপে ৫৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। টাকা ফেরত চাইলে চক্রটি টালবাহানা শুরু করে এবং আরও অর্থ দাবি করে। একপর্যায়ে প্রতারণা বুঝতে পেরে তিনি পল্লবী থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— ১. মো. তোফায়েল হোসেন ওরফে রতন (৬৮), ২. মো. লিটন মুন্সী (৬০), ৩. মো. বাবুল হোসেন (৫৫) এবং ৪. মো. নুরুল ইসলাম (৩৯)। সিআইডি জানিয়েছে, তোফায়েল হোসেন ও লিটন মুন্সীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা রয়েছে।
অভিযানকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, ১২টি সিম কার্ড, ৫টি মানি রিসিট, ২টি ভুয়া বিলের কাগজ এবং কিছু বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় ভুয়া অফিস ভাড়া নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছিল। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে সিআইডি জানিয়েছে, অচেনা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ফোনে চাকুরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা উচিত। যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ছবি সংগৃহীত।

