চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ বিদ্যাপীঠের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তাঁকে সহায়তাকারী এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অসাধু উপায়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পরপরই ভোলা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থীকে কৌশলে ভবনের তিন তলার স্টোর রুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালান। এ সময় শিশুটি প্রাণভয়ে চিৎকার করতে গেলে তার মুখ চেপে ধরে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি যেন কেউ না জানে, সে জন্য শিশুটির হাতে মাত্র ২০ টাকা গুঁজে দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে তা ধামাচাপা দিতে মাঠে নামেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার রাতে সাবেক ইউপি সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফিরোজ মেম্বারসহ কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী ভুক্তভোগীর দাদা-দাদির ঘরে গিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সুরাহার প্রস্তাব দেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সেই অনৈতিক প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে।

পরদিন সকালে নির্যাতনের জবাব চাইতে শিশুটির স্বজনেরা বিদ্যালয়ে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন ও তাঁর অনুসারীরা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকসহ তাঁর লোকজন শিশুটির মামা, দাদা ও দাদির ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করেন।

তবে সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল (ফিডিং কর্মসূচির) খাবার বণ্টনকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা এসে ক্লাস চলাকালীন তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তিনি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, নির্যাতিত শিশুর পরিবারের এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনসহ এ ঘটনায় যুক্ত দুজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *