মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা চিরুনি অভিযান চালিয়ে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্র ও চোরাই বাইক ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের ৩ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) দিবাগত গভীর রাত থেকে শুরু করে আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) ভোর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা বাজারের মোটরবাইক গ্যারেজ মালিক বিশ্বজিত কর্মকার, কালীগঞ্জের গাজীর বাজারের পুরাতন মোটরবাইক শোরুম ব্যবসায়ী সোবহান এবং ঝিনাইদহ সদরের নারিকেল বাড়িয়া বাজারের গ্যারেজ মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মামলার বাদী ও কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সূত্রে সীমান্ত অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নিয়ে আসা চোরাই মোটরবাইক কেনাবেচার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবহিত করেন। ওসির নির্দেশে পুলিশের একটি চৌকস দল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রথম অভিযানটি চালায় কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা রোডের বিশ্বজিত কর্মকারের মোটরবাইক গ্যারেজে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি কালো রঙের ১৫০ সিসি পালসার এবং একটি লাল রঙের ১০০ সিসি প্লাটিনা চোরাই মোটরবাইকসহ বিশ্বজিতকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটক বিশ্বজিতের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে পুলিশ ঝিনাইদহ সদরের নলডাঙ্গা বাজারে অপর সহযোগী আব্দুল্লাহ আল মামুনের গ্যারেজে দ্বিতীয় দফা অভিযান চালায়। সেখান থেকে একটি কালো-লাল রঙের ১২৫ সিসি ডিসকভার এবং একটি লাল রঙের ১১০ সিসি হোন্ডা মোটরবাইক জব্দসহ মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ধৃত দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোররাতে কালীগঞ্জ উপজেলার গাজীর বাজারে সোবহানের পুরাতন মোটরসাইকেলের শোরুমে তৃতীয় দফা অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে আরও একটি কালো রঙের ১২৫ সিসি ডিসকভার মোটরবাইক উদ্ধারসহ সোবহানকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর আজ শনিবার বিকেলে কালীগঞ্জ থানা চত্বরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, “গ্রেফতারকৃতরা মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মটরসাইকেল চুরি করে এনে সেগুলোর ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর হালকা পরিবর্তন করে ভুয়া বা কাগজ ছাড়া বিক্রি করার একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। উদ্ধারকৃত ৫টি মোটরবাইকের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা মালিকানার প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি।”
ওসি আরও জানান, এই চক্রের বিরুদ্ধে এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি নিয়মিত চুরির মামলা দায়ের করেছেন। আজ সন্ধ্যার আগেই গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

