কোস্টগার্ড গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে ‘থার্ড ডিগ্রি’ টর্চারের অভিযোগ

কোস্টগার্ড গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে ‘থার্ড ডিগ্রি’ টর্চারের অভিযোগ

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সেতু থেকে এক যুবককে তুলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া সহ অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নিজামপুর কোষ্টগার্ড গোয়েন্দা সদস্যদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার  যুবক শামিম ফকির (২৯) বর্তমানে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি উপজেলার নীলগঞ্জ ইউপির আক্কেলপুর গ্রামের গনি ফকিরের ছেলে।
হাসপাতালে শয্যায় থেকে আহত ওই যুবক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে মহিপুর শেখ জামাল সেতুতে তার আপন ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রাকৃতিক বাতাস উপভোগ করছিলেন।
এ সময় হঠাতই কোষ্ট গার্ড পরিচয়ে সিভিল পোশাকে এসে তাকে ধরে নিজামপুর স্টেশনে নিয়ে যায় বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ। পরে কোস্টগার্ড স্টেশনের একটি কক্ষে চোখ বেঁধে তার দু পায়ের তালুতে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া বৈদ্যুতিক শক দিয়ে সারা শরীরে নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগী শামিমের অভিযোগ, নির্যাতনকালে তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তি  নিতে চাইছিলেন  গোয়েন্দারা। তিনি গলদা চিংড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত সন্দেহেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শামিমের। ওই রাতে শামীমের সঙ্গে থাকা ১০ হাজার ৭শ টাকা হাতিয়ে নেয় কোষ্টগার্ড। এছাড়া ফোনের দুইটি সিম ভেঙে ফেলে গ্যালারিতে থাকা সব ডকুমেন্টস মুছে দেওয়ারও অভিযোগ শামিম ফকিরের।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি মূলত ঢাকায় একটি বালুর ড্রেজারে কাজ করি। কিন্তু সন্দেহের বসে আমাকে তুলে নিয়ে রাত ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্যাতন করে কি জানতে চাইলো আমার জানা নেই। এছাড়া টর্চারের পর কোষ্টগার্ড স্টেশনের দেওয়াল টপকে আমাকে আহতাবস্থায় বাইরে পাঠানো হয়। পরে তিনি সঙ্গা হারালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে তাকে গণমাধ্যমের সামনে মুখ না খুলতে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শামিম।
অপরদিকে আহতের ছোট ভাই আবির জানান, বিদ্যুৎ ছিলনা বিধায় হাওয়ার সন্ধানে সেতুতে যাই। আচমকা এসেই বড় ভাইকে আটক করে এবং আমার ফোনটা নিয়ে যায়। কিন্তু আমার পড়া আছে বললে আমাকে মুখ বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। কিন্তু কিসের গলদা মাছের সঙ্গে ভাই জড়িত তা বুঝে উঠতে পারছি না। ভাই তো ঢাকায় একটি ড্রেজারে কাজ করেন। তাকে কিভাবে টর্চার করেছে পা থেকে সারা শরীরে ক্ষতের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। অকারণে এটা কেমন জুলুম করল কোষ্টগার্ড এমন প্রশ্ন তার।
আহতদের বিষয়ে কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে মিস্টার শামিমকে নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার পায়ের তালুতে এবং আঙুলে আঘাত করা হয়েছে এবং পুরুষাঙ্গেও টর্চার করা হয়েছে। এছাড়া ওই ব্যক্তির শরীরে কিছু ক্ষতস্থানে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। যেগুলো নোট করে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এবিষয়ে জানতে নিজামপুর কোষ্টগার্ড স্টেশনের গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্বরত ব্যক্তির নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিচয় দিতে রাজি হননি। এছাড়া ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, খোজ নিয়ে দেখা হবে এই স্টেশনের কেউ কোন ব্যক্তিকে তুলে এনেছিল কিনা।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *