স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক আউটডোর থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা সরল-সোজা রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে ফুসলিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক সক্রিয় দালালকে হাতেনাতে আটক করেছে হাসপাতাল পুলিশ। আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের অর্থোপেডিক আউটডোরের প্রবেশদ্বারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত মেহেদী হাসান যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাউলিয়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। পরে তাঁকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, আজ দুপুরে অর্থোপেডিক বিভাগে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা দুই অসহায় নারী রোগীকে সরকারি সেবার নামে নানা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি ও প্রলোভন দেখাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান। বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত হাসপাতাল পুলিশের বিশেষ চৌকস সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ অন্যান্যদের নজরে এলে তারা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মেহেদীকে হাতেনাতে অবরুদ্ধ ও আটক করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের অন্য দালালদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর পরই শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত ‘ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করতে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আটক হওয়া মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের চাকরি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব, এজেন্সি, দালালি, কমিশনভিত্তিক কাজ বা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের লিখিত অনুমতি ছাড়া কেউ যদি বাইরে তাদের নাম বা সুনামের অপব্যবহার করে, তবে তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও আইনি দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। একই সঙ্গে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ভাঙিয়ে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সাধারণ মানুষ কিংবা রোগীর কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন, অবৈধ রোগী সংগ্রহ বা কমিশনের দাবি করে, তবে তা কোনোভাবেই বিশ্বাস না করার জন্য সমগ্ৰ যশোরাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি এই বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে দালালি চক্র ও ছদ্মবেশী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এমন আকস্মিক ও কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

