এক পোয়া ৫০ হাজার!

এক পোয়া ৫০ হাজার!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি বিরল ও অত্যন্ত মূল্যবান সামুদ্রিক কালো পোয়া মাছ ধরা পড়েছে। স্থানীয় জেলেদের কাছে ‘লম্বু পোয়া’ নামে পরিচিত এই মাছটি গতকাল রোববার সকালে কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী আলীপুর মৎস্য বন্দরে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সাগরে নিম্নচাপের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে গিয়ে জেলেরা এমন মূল্যবান মাছের সন্ধান পাওয়ায় উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

আলীপুর মৎস্য বন্দর ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে কুয়াকাটা উপকূল সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যান স্থানীয় অভিজ্ঞ জেলে রহিম মাঝি। সাগরে বেশ কিছুদিন ধরে মাছের আকাল চলায় এবং নতুন করে নিম্নচাপের পূর্বাভাস থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তা নিয়েই তিনি জাল ফেলেন। তবে শেষ রাতে জাল তোলার পর দেখা যায়, অন্যান্য সাধারণ সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে জালে আটকে আছে বিশাল আকৃতির ও চকচকে ধূসর-কালো রঙের একটি মূল্যবান কালো পোয়া মাছ। রোববার সকালে রহিম মাঝি মাছটি বিক্রির জন্য আলীপুর মৎস্য বন্দরের আড়তে নিয়ে আসেন। সেখানে মাছটির ওজন মেপে দেখা যায় তা প্রায় ৮ কেজি (৭ কেজি ৮০০ গ্রাম)। এরপর আড়তদারের খোলা ডাকে প্রতি মণ আড়াই লাখ টাকা দরে, কেজিপ্রতি ৬ হাজার ২৫০ টাকা হিসাবে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন ‘কুয়াকাটা ফ্রেশ ফিশ’-এর স্বত্বাধিকারী ও বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী পিএম মূসা।

ভাগ্যবান জেলে রহিম মাঝি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, “সাগরে বেশ কিছুদিন ধরে ভালো মাছ মিলছিল না, তার ওপর আবার লঘুচাপ-নিম্নচাপ শুরু হয়েছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে গিয়ে জাল ফেলে যে এত দামী মাছ পাব, তা কখনো কল্পনাও করি নাই। এই মাছটি বিক্রি করে ভালো টাকা পেয়েছি, আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া।”

মাছের ক্রেতা পিএম মূসা জানান, তিনি নিয়মিত আলীপুর ও মহিপুর বন্দর থেকে বিভিন্ন ধরনের বড় ও বিরল সামুদ্রিক মাছ কিনে ঢাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করেন। তিনি আরও বলেন, “কালো পোয়া মাছের ‘সুইম ব্ল্যাডার’ বা ভেতরের বায়ুথলি (আঞ্চলিক ভাষায় মাছের বালিশ বা পটকা) অত্যন্ত মূল্যবান। এটি দিয়ে উন্নত মানের সুতা ও মূল্যবান ওষুধ তৈরি করা হয়, যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এই মাছের চামড়া ও পটকার এত বিপুল চাহিদা এবং চড়া বাজারদর।”

এই বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, “স্থানীয়ভাবে এই মাছটিকে কালো পোয়া বা লম্বু পোয়া বলা হয়। সমুদ্রের পরিবেশ ভালো থাকলে এদের ওজন সাধারণত ৪ কেজি থেকে শুরু করে ৪০ কেজি বা তারও বেশি হতে পারে। এর ঔষধি ও বাণিজ্যিক মূল্যের কারণে অনেকেই একে ‘সাগরের কালো সোনা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। সরকারি ৫৮ দিনের সাগরে মৎস্য আহরণের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরপরই জেলেদের জালে এমন বড় ও মূল্যবান মাছ ধরা পড়া নিঃসন্দেহে আমাদের মৎস্য সম্পদের সমৃদ্ধি ও উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য একটি দারুণ সুখবর।”

ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *