স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে চলন্ত ইজিবাইকে ভুলবশত ফেলে যাওয়া নগদ অর্থ, রুপার অলংকার ও মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী সংবলিত একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ বক্সের সদস্যরা। আজ শনিবার দুপুরে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে ওই নারীর হাতে এই মালামাল তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা অনামিকা পাল (২৩) ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পুলেরহাট এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইকযোগে শহরের দড়াটনায় যাচ্ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অসাবধানতাবশত তিনি তাঁর সাথে থাকা লাল রঙের মূল্যবান ভ্যানিটি ব্যাগটি ইজিবাইকের সিটেই ফেলে রেখে নেমে যান। ব্যাগটিতে নগদ ৬ হাজার টাকা, এক জোড়া রুপার নূপুর, এক জোড়া রুপার আংটি, বেশ কিছু সিটি গোল্ডের গয়না, দুটি সচল সিম কার্ড ও দুটি মেমোরি কার্ডসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত নথিপত্র ছিল। পরবর্তীতে ব্যাগটির কথা মনে পড়লে তিনি সেটি আর খুঁজে পাননি।
এদিকে, ওই ইজিবাইকে পরবর্তী সময়ে আরোহী হিসেবে ওঠেন মণিরামপুর উপজেলার ডাকুরিয়া ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চন্দন (২২) ও তাঁর সহযোগী ইমন (২১)। সিটের ওপর একটি পরিত্যক্ত লাল রঙের ব্যাগ দেখতে পেয়ে তাঁরা সেটি হাতে নেন। ব্যাগের ভেতর নগদ টাকা ও মূল্যবান অলংকার দেখে কোনো লোভের বশবর্তী না হয়ে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে সততার পরিচয় দেন এবং ব্যাগটি নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তরের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সে নিয়ে জমা দেন।
হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্যরা ব্যাগটি জমা নেওয়ার পর সেটির ভেতরে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডায়েরি ঘেঁটে প্রকৃত মালিকের সাথে যোগাযোগের সূত্র খুঁজে বের করেন এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনামিকা পালের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন।
আজ শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী অনামিকা পাল সশরীরে হাসপাতাল পুলিশ বক্সে হাজির হয়ে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর দেওয়া বিবরণীর সাথে ব্যাগের মালামাল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেন। মালামালের শতভাগ মিল পাওয়ায় হাসপাতাল পুলিশ বক্সের দায়িত্বরত এএসআই আঃ সালাম ও কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম ফাহিমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে ওই নারীর হাতে খোয়া যাওয়া সব মালামাল ও ব্যাগটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেন।
টাকা ও গহনাসহ সাধের ব্যাগটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ফেরত পেয়ে অনামিকা পাল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি ইজিবাইকের সৎ দুই আরোহী চন্দন ও ইমন এবং ব্যাগটি পরম মমতায় উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেওয়ায় যশোর হাসপাতাল পুলিশের কর্তব্যরত সকল সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ছবি সংগৃহীত।

