স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের বকচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ২০ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর সন্ধান গত দুই মাসেও মেলেনি। একমাত্র মেয়ের কোনো হদিস না পেয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন মা লাইলী বেগম ও পিতা আনোয়ার হোসেনসহ পুরো পরিবারের সদস্যরা। সময় যত গড়াচ্ছে, মেয়ের ফিরে আসার আশায় বুক বেঁধে থাকা পরিবারটি ততটাই দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে ২০২৬ দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে যশোর শহরের বকচর এলাকার নিজ বসতবাড়ি থেকে হুশতলার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে বের হন তিন্নি। কিন্তু এরপর আর তিনি ঘরে ফিরে আসেননি। ঘটনার পর থেকে পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য সকল স্থানে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেও তিন্নির কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজ তিন্নির গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং গড়ন পাতলা। তিনি মূলত যশোরের স্থানীয় বা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা রঙের জামা ও ওড়না, সাথে কফি রঙের পায়জামা এবং পায়ে ছিল গোলাপি রঙের বার্মিজ স্যান্ডেল।
মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজের ২১ দিন পর অর্থাৎ গত ২৬ মে তিন্নির মা লাইলী বেগম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেন।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়েরিটি আমলে নিয়ে দেশের সবকটি থানায় বার্তা পাঠানোসহ তরুণীটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান পেতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে হাত জোড় করে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিন্নির মা-বাবা। যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি উপরোক্ত বিবরণ অনুযায়ী এই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর সন্ধান পেয়ে থাকেন বা কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তবে অবিলম্বে নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়ি, যশোর কোতোয়ালি থানা অথবা তিন্নির পিতা আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে (০১৭৮১৫২৭৩২৫) যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। ছবি সংগৃহীত।

