হোটেলের বন্ধ কক্ষে গৃহবধূ খুন : ২৪ ঘণ্টায় প্রধান ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

হোটেলের বন্ধ কক্ষে গৃহবধূ খুন : ২৪ ঘণ্টায় প্রধান ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ শান্তা বেগম (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ক্লু-লেস রহস্য ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত নিহতের কথিত স্বামী ও প্রধান ঘাতক মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সকালে তাকে গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে নিজেকে তৃতীয় স্বামী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তাস্থ ‘আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেল’-এর ৩০৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন সাইফুল ও শান্তা বেগম। ওই দিন রাত পৌনে ১১টা নাগাদ হোটেল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ রুম থেকে শান্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের বুক ও গলায় ধারালো অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট আঘাত ছিল।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পিবিআই গাজীপুরের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৩৯) দায়ের করেন। ঘটনাটি পিবিআই-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করেন পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং গাজীপুর জেলা পিবিআই ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে নিবিড় তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ছায়াতদন্ত শুরু হয়।

আজ ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডিএমপি দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাইফুলের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া আসামির জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সন্দেহ থেকে তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেলে ওঠার পর তা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে সাইফুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে শান্তার বুকে ও গলায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এরপর নিহতের মোবাইল ও পরিচয়পত্র নিয়ে হোটেল ছেড়ে চম্পট দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর পিবিআই ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, “ঘটনার পরপরই আমাদের ক্রাইম সিন টিম ও তদন্তকারী অফিসাররা মাঠে নামেন। বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রযুক্তি ও মেধা কাজে লাগিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে মালামালসহ গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *