হাইপ্রোফাইল উপশহর ইউনিয়নে বিএনপির ট্রাম্পকার্ড কে? ৮২’র ছাত্ররাজনীতি থেকে অতিরিক্ত পিপি: প্রার্থী তালিকায় অ্যাডভোকেট ময়না

হাইপ্রোফাইল উপশহর ইউনিয়নে বিএনপির ট্রাম্পকার্ড কে? ৮২’র ছাত্ররাজনীতি থেকে অতিরিক্ত পিপি: প্রার্থী তালিকায় অ্যাডভোকেট ময়না

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আর তোড়জোড় মিলিয়ে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে এর অভ্যন্তরীণ রূপরেখা ও প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে, যার ফলে আগামী আগস্টের মধ্যেই নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর এই মোক্ষম সময়কে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশের মতো যশোর জেলার ৮টি উপজেলার ৯৩টি ইউনিয়নেও বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী উত্তাপ।

যশোরের ৫নং উপশহর এলাকাটি ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অভেদ্য ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বড় বড় আন্দোলন-সংগ্রামে এই এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং প্রভাব সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকে।

যশোর শহরের বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই উপশহর এলাকাটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। ফলে যশোর জেলার এবং জাতীয় রাজনীতির অনেক নামিদামি ও হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্থায়ী বা অস্থায়ী বসবাস এই ইউনিয়নেই। যশোরের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, অভিজাত এবং সুধী সমাজ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (যেমন: সচিব, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা), নামকরা শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং স্বনামধন্য চিকিৎসকদের প্রধান বাসস্থান এই উপশহর। এই ইউনিয়নটি শুধু একটি সাধারণ ইউনিয়ন নয়, বরং যশোর জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় অংশ এর ওপর নির্ভরশীল। এখানে রয়েছে সরকারি বড় বড় কার্যালয়, নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উন্নত আবাসিক সুযোগ-সুবিধা, যা এই ইউনিয়নটির রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে, ৫নং উপশহর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের রাজনীতিতে উপশহরের কয়েকজন ক্লিন ইমেজের হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে সামনে এসেছেন যশোর জজ কোর্টের অতিরিক্ত পি.পি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিক এ্যাডভোকেট কাজী সেলিম রেজা ময়না। দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকা এই সজ্জন আইনজীবী এবার ৫নং উপশহর ইউনিয়নে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে শক্ত দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। আইন অঙ্গনে সততা ও সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ ভালোই রয়েছে।

তবে এখানেও রয়েছে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী— উপশহরের সি ব্লকের বাসিন্দা, উপজেলা পর্যায়ের অপর এক ক্লিন ইমেজের শীর্ষ বিএনপি নেতা। দলীয় নমিনেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর অবস্থানই সমান শক্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও সচেতন এলাকাবাসী।

এ্যাডভোকেট কাজী সেলিম রেজা ময়নার রাজনৈতিক জীবনের ভিত গড়ে ওঠে ১৯৮২ সালে, যশোর সিটি কলেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে তিনি ধাপে ধাপে নিজের মেধা ও শ্রমের স্বাক্ষর রেখে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে যশোর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং যশোর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্ররাজনীতি শেষে তিনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সম্পৃক্ত হন এবং ২০০২ সাল থেকে দীর্ঘ ৭ বছর যাবত যশোর জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাংগঠনিক পদের দায়িত্ব সফলভাবে সামলান। এছাড়াও তিনি যশোর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং ২০২৫ সালে যশোর সদর উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করতে ‘উপশহর পেশাজীবী ফোরাম’-এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত জীবনে এ্যাডভোকেট ময়না শুধু একজন সফল আইনজীবীই নন, বরং একজন দক্ষ আয়কর উপদেষ্টা  হিসেবেও সুপরিচিত। এছাড়া তিনি যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক কার্যকরী সদস্য এবং সরকারি ‘লিগ্যাল Aid’ যশোরের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি যশোর জজ কোর্টের অতিরিক্ত পি.পি হিসেবে অত্যন্ত সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শাসনামলে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। সরাসরি তাঁর নামে বড় কোনো রাজনৈতিক মামলা না থাকলেও দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা ও দলীয় কার্যক্রম সচল রাখতে পর্দার আড়ালে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২০২২ সালে আওয়ামী সরকারের আমলের প্রহসনের ইউপি নির্বাচনে তিনি বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে দল তাকে নমিনেশন দেননি। তিনি সেই দলীয় সিদ্ধান্তকে সানন্দে মাথা পেতে নেন।

সরেজমিনে ৫নং উপশহর ইউনিয়নের কয়েকজন সচেতন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ্যাডভোকেট কাজী সেলিম রেজা ময়না একজন অত্যন্ত সৎ, বন্ধুবৎসল ও সাদা মনের মানুষ। এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে মধ্যরাতে ডাকলেও তাকে পাশে পাওয়া যায়।

সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয় হলো, তিনি এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে আলোর পথে সংশোধনের জন্য ব্যক্তিগত স্তরে অসংখ্য অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এলাকার আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে এবং মাদক ও সন্ত্রাস দমনে তিনি কখনোই কারো সাথে কোনো আপোষ করবেন না।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট কাজী সেলিম রেজা ময়না বলেন, “আমি এলাকার চিরাচরিত রাজনৈতিক গ্রুপিং ও লবিং কালচারের ঊর্ধ্বে থেকে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে এক কাতারে এনে কাজ করতে আগ্রহী। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে উপশহরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে আমি নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দেব। তবে দল যদি কোনো কারণে আমাকে মনোনয়ন নাও দেয়, তাতেও জনগণের সেবায় আমার কোনো কমতি থাকবে না। সবাইকে সাথে নিয়ে আমি উপশহরের সামগ্রিক পরিবেশের একটি সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই।”(ছবি: সংগৃহীত)

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *