স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা সীমান্তে পৃথক ও সফল ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দুটি আমদানিনিষিদ্ধ শক্তিশালী বিদেশি পিস্তল এবং চারটি ম্যাগাজিনসহ দুই অস্ত্র কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ দিক-নির্দেশনায় আজ বুধবার রাত আনুমানিক ৩টা ৩৫ মিনিটে ডিবি যশোরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন কুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ওই এলাকার চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী রাসেল রানাকে তার টিনের তৈরি বসতঘর থেকে ঘেরাও করে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে ঘরেই নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং তার শয়নকক্ষের বিছানার বালিশের নিচে রাখা একটি কালো পলিথিন ব্যাগে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ও ম্যাগাজিন লুকিয়ে রাখার কথা জানায়। পরে রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বালিশের নিচ থেকে সুকৌশলে রাখা দুটি ৭.৬৫ বোরের অত্যন্ত আধুনিক বিদেশি পিস্তল এবং চারটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে জব্দ করে ডিবি পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, আটককৃত রাসেল রানাকে তাৎক্ষণিক ডিবির হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে এই আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান চক্রের মূল হোতা ও তার অন্য সহযোগীর নাম প্রকাশ করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিমটি রাতেই বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী পশ্চিমপাড়া এলাকায় অপর এক চিরুনি অভিযান চালায়। সেখান থেকে এই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য জিয়াউর রহমান ওরফে হাফিজুরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ডিবি পুলিশের অপরাধ নথির খতিয়ান অনুযায়ী, আটক রাসেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত মাদক চোরাচালানের সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। এবারের অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামতের তালিকায় রয়েছে দুটি সচল ৭.৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন এবং অপরাধীদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত একটি দামী ভিভো (Vivo) ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক এই দুই দুর্ধর্ষ অস্ত্র কারবারির বিরুদ্ধে শার্শা থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চোরাচালান চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং সীমান্ত গলে এই মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র কোনো বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ব্যাপক রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ছবি সংগৃহীত।


