নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্র পরিচালনা মানে বিলাসিতা নয়, বরং দায়িত্ব ও সংযম—এই বার্তাই যেন ফুটে উঠল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে। সম্প্রতি সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’-এর নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাদাসিধে আপ্যায়ন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানদের খাবারে রাজকীয় আয়োজন বা পাঁচ তারকা হোটেলের বুফে থাকাটাই আমাদের চেনা সংস্কৃতি, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে ছিল অত্যন্ত সাধারণ মানের খাবার। মেনুতে ছিল:
-
সাদা ভাত
-
ঢ্যাঁড়শ ভাজি
-
লাউ-চিংড়ি
-
ডিমের তরকারি
-
এক বাটি দই
বিস্ময়কর তথ্য হলো, বিগত শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রতি খাবারের বরাদ্দ যেখানে ছিল প্রায় ৮০০ টাকা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে মাত্র ১৫০ টাকায় নামিয়ে এনেছেন। বর্তমান বাজারে ১৫০ টাকায় একটি মানসম্মত খাবার পাওয়া যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন, সেখানে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির এমন সংযম এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শুধু খাবারেই নয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: ১. মন্ত্রী-এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল। ২. সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ভিভিআইপি প্রটোকল না নেওয়া। ৩. জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে সরাসরি ব্যয় সংকোচন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই জীবনযাত্রায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখছেন। জিয়াউর রহমানও অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন এবং ডাল-ভাত-মাছ ছিল তাঁর প্রিয় খাবার। তাঁর সেই নীতিই যেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পুনরায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।
নোয়াবের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মৃদু হেসে বলেন, “মন তো আমারও খারাপ, আমিও তো সেই (সুবিধা ত্যাগের) সুযোগ পেলাম না।” তাঁর এই রসিকতা ও ত্যাগের মানসিকতা প্রমাণ করে যে, এই সংযম তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং এটি তাঁর আদর্শিক সিদ্ধান্ত।
সূত্র : ইত্তেফাকে প্রকাশিত আহসান হাবিবের লেখা থেকে। ছবি সংগৃহীত।

