বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী মৎস্যবন্দর মহিপুর থানাকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার চূড়ান্ত প্রস্তুতির খবরে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদকে উপজেলা করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ায় খুশির জোয়ার বইছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জেলে ও সর্বস্তরের নাগরিকদের মাঝে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১৪ পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারণাকালে মহিপুরকে একটি স্বাবলম্বী প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষে নির্বাচনের পর গত ৫ জুন তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পেশ করেন। সংসদ সদস্যের ওই আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে গত ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-১ মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি এই তৎপরতার ফলে কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভাকে সমন্বিত করে নতুন ‘মহিপুর প্রশাসনিক উপজেলা’ গঠিত হতে যাচ্ছে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে মহিপুর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। গত ২০১৬ সালে মহিপুরকে থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই এলাকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রধান মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক-বীমা, শিল্প কারখানা, নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, দেশের ডিজিটাল যোগাযোগের অন্যতম মূল ভিত্তি ও দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি এই মহিপুরেই অবস্থিত। এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রটিও মূলত মহিপুর থানা এলাকারই অংশ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পর্যটনকেন্দ্র ও মৎস্য বন্দরকেন্দ্রিক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশাল জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছিল। এই দাবি বাস্তবায়ন হতে চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

