মধ্যরাতে বিধবার ঘরে মসজিদের ইমাম!

মধ্যরাতে বিধবার ঘরে মসজিদের ইমাম!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় এক বিধবা নারীর বসতঘর থেকে গভীর রাতে স্থানীয় একটি জামে মসজিদের ইমামকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার (২৭ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। তবে আটকের পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন ওই নারী প্রকাশ্যেই ওই ইমামকে বিয়ে করার জোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

আটককৃত ইমামের নাম মো. সেলিম। তিনি উপজেলার নলছিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া জামে মসজিদে (টাঙ্গাইল পাড়া) অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ইমামতি করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দেড়াগাঁতী মধ্যপাড়া এলাকার শানু বেগম নামে এক নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর সাথে ইমাম সেলিমের এক প্রকার সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে কানাঘুষা ও গুঞ্জন চলছিল। শনিবার রাতে ইমাম সেলিম চুপিচুপি ওই বিধবা নারীর বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি স্থানীয় যুবকদের নজরে আসে। পরে রাত ১২টার দিকে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে ওই নারীর ঘর ঘেরাও করে ভেতর থেকে ইমাম মো. সেলিমকে হাতেনাতে আটক করে।

আটকের পর লোকলজ্জার মুখে পড়ে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন ইমাম মো. সেলিম। তিনি বলেন, “গত প্রায় দেড় মাস ধরে আমাদের মধ্যে মুঠোফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো। সেই গভীর সম্পর্কের সূত্র ধরেই আমি রাতে তাঁর বাড়িতে দেখা করতে যাই। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে আমাকে ঘরে আটকে রাখে।”

অন্যদিকে, লোকলজ্জা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে তোয়াক্কা না করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শানু বেগম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের দুই জনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে। আমি রাতে আমার বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিলাম। পরে তিনি (সেলিম) আমার ঘরে আসেন। আমি তাকেই আমার স্বামী হিসেবে পেতে চাই এবং আইনসম্মতভাবে বিয়ে করতে চাই।”

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চান্দাইকোনা ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাতেই ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালান।

এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “গভীর রাতে এক নারীর ঘর থেকে মসজিদের ইমামকে আটকের বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছেলে বা মেয়ে কোনো পক্ষ থেকেই থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। যেহেতু নারীটি নিজেই বিয়ে করার দাবি তুলছেন, তাই বিষয়টি মূলত সামাজিক। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ বা আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের খবর পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *