স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল পৌর এলাকায় পিছিয়ে পড়া ও দুস্থ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী করে তোলা এবং সমাজে তাঁদের টেকসই আত্মকর্মসংস্থানের এক নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও মাসব্যাপী বিশেষ সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কল্যাণমুখী ও সময়োপযোগী কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রান্তিক নারী পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত সেলাই প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন সুবিধা পাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) বিকেলে বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি অডিটোরিয়ামে ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও আয়োজনে এই বৃহৎ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থার সম্মানিত সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগমের অত্যন্ত চমৎকার ও দক্ষ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড নিয়াজ মাখদুম। এছাড়া বেনাপোল ও শার্শা এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের টেকসই ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শুধু ঘরের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে এবং সমাজে তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণের মতো এই মানবিক উদ্যোগ নারীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “নারীদের সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সুসমন্বয়ে যদি এ ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, তবে অনেক নারী ঘরে বসেই অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে আয় করতে পারবেন এবং নিজ নিজ পরিবারের আর্থিক সংকট দূরীকরণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।” তিনি আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থার এই বিশাল আয়োজনকে সাধুবাদ জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ ও যশোর অঞ্চলের অবহেলিত নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাবলম্বী ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তামূলক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা হবে। আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত সফল প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের সেলাই মেশিন বিতরণ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী প্রশিক্ষণার্থী ও সংস্থার সাধারণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যাদের মুহুর্মুহু করতালিতে পুরো অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। বক্তারা এই পুরো উদ্যোগকে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি অনন্য, সময়োপযোগী ও মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ছবি সংগৃহীত।


