স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ব্যস্ততার মাঝেই জেলা শহরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘অজ্ঞান পার্টি’ ও ছিনতাইকারী চক্র। এবার যশোর শহরের ব্যস্ততম আরবপুর বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় এক অসহায় ইজিবাইক চালককে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সম্পূর্ণ অচেতন ও অজ্ঞান করে তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস ইজিবাইকটি নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেছে একদল দুর্ধর্ষ প্রতারক চক্র। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) বিকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মম ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
ছিনতাইয়ের শিকার ও অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া ওই ইজিবাইক চালকের নাম আখতারুজ্জামান (৪০)। তিনি যশোর সদর উপজেলার ছোট মেঘলা নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা মৃত বারেক আলীর ছেলে বলে পরিবার ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে আরবপুর বিমানবন্দর সড়কের পাশে এক ব্যক্তিকে দীর্ঘক্ষণ সম্পূর্ণ অচেতন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য চালকেরা মানবিক কারণে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থানান্তর ও ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চালক আখতারুজ্জামানের শরীরে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার চেতনানাশক বা ক্লোরোফর্ম জাতীয় বিষাক্ত উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় ইজিবাইক চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রাথমিকভাবে শতভাগ ধারণা করছেন, যাত্রীবেশী দুর্বৃত্ত ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে ডাব, কোমল পানীয় কিংবা চায়ের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে চালক আখতারুজ্জামানকে সম্পূর্ণ অবশ ও অচেতন করে ফেলে। পরবর্তীতে তাকে নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তাঁর কষ্টার্জিত ইজিবাইকটি নিয়ে চক্রের সদস্যরা চম্পট দেয়।
এই ন্যাক্কারজনক ও নির্মম ছিনতাইয়ের বিষয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী চালকের এখনো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না ফেরায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা ইজিবাইকটির সঠিক নম্বর জানা সম্ভব হয়নি। আখতারুজ্জামানের জ্ঞান ফিরলে এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হলে তাঁর জবানবন্দি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধারে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হবে। এই ঘটনায় যশোর শহরের ইজিবাইক চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরিচিত যাত্রীদের দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার জন্য চালকদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে পুলিশ প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।

