স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নে এক আতঙ্কের চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে একটি দ্বিতল ভবনের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষে চেতনানাশক (অজ্ঞান করার বিষাক্ত স্প্রে) বস্তু স্প্রে করে এক প্রবীণ দম্পতিকে অজ্ঞান করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। পরে আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, আমেরিকান ডলার এবং দুটি পাসপোর্ট চুরি করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত চোরচক্র। গত সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত গভীর রাতে ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে।
চেতনানাশক স্প্রের শিকার ভুক্তভোগীরা হলেন—পদ্মবিলা গ্রামের মৃত হাজী রহিম বক্স সরদারের ছেলে বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম (৬৫) এবং তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগম (৬০)। বর্তমানে তাঁরা অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময়ে একদল সুসংগঠিত অজ্ঞাত চোর রবিউল ইসলামের দ্বিতল পাকা ভবনের গ্রিলের তালা সুকৌশলে কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চোরচক্রটি সরাসরি দম্পতির শয়নকক্ষে গিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে তীব্র চেতনানাশক স্প্রে করে। এতে রুমে ঘুমিয়ে থাকা রবিউল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগম মুহূর্তের মধ্যেই গভীর ও অচেতন ঘুমে ঢলে পড়েন।
দম্পতি সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়ার পর চোরচক্রটি ঘরের ভেতরের আলমারির তালা ভেঙে তাণ্ডব চালায়। ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, আলমারিতে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা, আনুমানিক ৮ থেকে ৯ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৪’শ ইউএস ডলার (মার্কিন মুদ্রা) এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাসপোর্ট নিয়ে চম্পট দেয় চোরেরা।
মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘ সময় পার হলেও রবিউল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী ঘুম থেকে না ওঠায় এবং ঘরের দরজা খোলা দেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দুজনকে অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং আলমারি ভাঙা অবস্থায় পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোফাজ্জল হোসেন দ্রুত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং চোরচক্রের ফেলে যাওয়া আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
এসআই মোফাজ্জল হোসেন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চোরচক্রটি স্থানীয় নাকি পেশাদার কোনো অজ্ঞানপার্টি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় রাতের বেলা জানালার পাশে ঘুমানো নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে এক ধরনের নতুন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

