বিলে গোসল করতে নেমে গেল ২ শিশুর প্রাণ

বিলে গোসল করতে নেমে গেল ২ শিশুর প্রাণ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নরসিংদীর রায়পুরায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও পানিতে ডুবে মৃত্যুর এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এবার উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামের নামারচর বিলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশু শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো— ভেলুয়ারচর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নিপা (৭) এবং একই গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি (৮)। তারা দুজনেই স্থানীয় ভেলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে নিপা ও জান্নাতিসহ বেশ কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী মিলে বাড়ির পাশে নামারচর বিলে গোসল করতে যায়। খেলার ছলে বিলে নামার একপর্যায়ে সাঁতার না জানা নিপা ও জান্নাতি গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা নিপা ও জান্নাতিকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার শুরু করে এবং দৌড়ে গিয়ে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিলে নেমে খোঁজাখুঁজি করে পানির নিচ থেকে শিশু দুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের পরপরই স্বজনরা তাদের দ্রুত রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শীলা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:”বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভেলুয়ারচর গ্রাম থেকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। মূলত ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি ঢোকার কারণেই তাদের প্রাণহানি ঘটেছে।”

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও দাফনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়পুরা উপজেলার পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে চারজন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ আবারও দুই শিশুর এই সলিলসমাধির ঘটনা গোটা রায়পুরা উপজেলায় এক শোকাবহ ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *