কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
যশোরের ইছালী ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার রহস্যঘেরা মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের দানা বেঁধেছে। গত শুক্রবার ভোরের দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বারোবাজার সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
নিহত ওই নেতার নাম বিপুল কুমার ঘোষ (৪৫)। তিনি ইছালী ইউনিয়নের ডাঙ্গাবহরা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল ঘোষের ছেলে এবং স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একদল অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্ত বিপুলকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে পাশের একটি নির্জন শ্মশানে জিম্মি করে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে বিপুলকে প্রাণে মেরে ফেলার এবং তাঁর বসতভিটা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে নগদ ১৮ হাজার টাকা ও একটি দামি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেয় তারা।
পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, এতটুকুতেই ক্ষান্ত হয়নি অপরাধীরা। পরবর্তীতে একটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তাঁদের প্রবল আশঙ্কা, সারারাত ধরে চলা এই বর্বর ও পৈশাচিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বিপুল। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও পদ্ধতি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
এদিকে,ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডাঙ্গাবহরা শ্মশানে বিপুল ঘোষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার সরাসরি অভিযোগ তুলেছে যে, এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটিকে ধামাচাপা দিতে এবং খুনিদের আড়াল করতে বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিহত বিপুল ঘোষের পরিবারের জোরালো দাবি, বিপুলকে জিম্মি করা এবং টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় যেসকল সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছিল অপরাধী চক্র, সেগুলোর আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কল রেকর্ড ও অবস্থান শনাক্ত (Track) করলেই এই নৃশংস ঘটনার মূল রহস্য এবং জড়িতদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। ছবি সংগৃহীত।


