স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় ৯ বছরের নিষ্পাপ শিশু ফারজানা আক্তার আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নির্মমভাবে হত্যা এবং পরবর্তীতে বস্তাবন্দি মরদেহ ডোবায় ফেলে গুম করার মামলায় বিতর্কিত আসামি রুবেলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে চাঞ্চল্যকর এই রায়ের ঘোষণা দেন।
আদালতের নথি ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকা থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অবুঝ শিশু আয়নী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দীর্ঘ ৯ দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি নর্দমা/ডোবা থেকে শিশুটির পচে যাওয়া গলিত মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশ ঘটনার পেছনে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা রুবেলের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা উন্মোচন করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আসামি রুবেল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দেন।
জবানবন্দিতে রুবেল স্বীকার করেন, পূর্বপরিচিতির সুযোগ নিয়ে বিড়ালছানা উপহার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু আয়নীকে সুকৌশলে তার ফুফুর একটি ফাঁকা বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতনের (ধর্ষণ) চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ক্ষোভে আয়নীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নিজের ব্যবহৃত সবজি পরিবহনের ভ্যানে করে মরদেহটি একটি বোরায় ভরে স্থানীয় ডোবায় ফেলে দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে সে।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামি রুবেলের নিজস্ব স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আইনি সাজা প্রদান করেন। এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত আয়নীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।ছবি সংগৃহীত।

