প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আগুন ছিল পরিকল্পিত নাশকতা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আগুন ছিল পরিকল্পিত নাশকতা

 স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের দ্বারা সুপরিকল্পিত একটি নাশকতা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অধিদপ্তরের স্টোর ইনচার্জসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা হলেন মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস (৫৫) গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ, মো. হুমায়ুন কবির খান (৫৯) স্টোরকিপার (মাস্টাররোল),মো. আসমাউল ইসলাম (৩০) পরিচ্ছন্নতাকর্মী (মাস্টাররোল)। এই ঘটনায় ‘হৃদয়’ নামে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে (রাত ২টা থেকে ভোর ৪টা ৩০ মিনিট) একজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি স্টোররুমের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি কয়েক দফায় রুম থেকে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেন এবং শেষবার বের হওয়ার সময় কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেন।

শনিবার সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান স্টোররুমে মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং অনেকগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্তে ৮৩টি ল্যাপটপ নিখোঁজ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসমাউল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, ৪-৫ জন মিলে এই আগুনের পরিকল্পনা করেন। আসমাউলকে এই কাজের জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা তিনি অগ্রিম গ্রহণ করেন। মূলত স্টোররুমের মালামাল সরানো বা অনিয়ম ঢাকতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *