স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাংলাদেশের পবিত্র জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে যশোরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), যশোর জেলা শাখা। আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক ভৈরব চত্বরে এই প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চিত্রা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন উৎসব বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সিপিবি যশোর জেলা কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মন্টুর সভাপতিত্বে এবং মুহিবুল্লাহ মুহিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তা ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিবি যশোর জেলা কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হাসান। এছাড়াও জেলা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আমিনুর রহমান হীরু, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন ও রাশেদ খানসহ অন্যান্য বামপন্থী নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সিপিবি নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাঙালি নিধনকারী ও শোষক পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিল। তারা শুধু আমাদের স্বাধীনতার নগ্ন বিরোধিতাই করেনি, বরং সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই যুদ্ধাপরাধীদের দোসর ও গণহত্যাকারীদের মদদদাতা দেশের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে উদযাপন করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” নেতৃবৃন্দ এটিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লাখ শহীদের রক্তের প্রতি চরম অবমাননা এবং জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ভালো করেই জানে, জামায়াত কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত স্বাধীন বাংলাদেশের নয়, বরং তারা হচ্ছে একাত্তরের বর্বর পাকিস্তানের পরীক্ষিত বন্ধু।” এই সাম্রাজ্যবাদী জালিয়াতি ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিতে দেশের সকল প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক জনতাকে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।ছবি সংগৃহীত।

