মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কেবিন থেকে উদ্ধার হওয়া চালক আব্দুর রহমান (৫০) মূলত ছিনতাইকারী চক্রের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে প্রবল ধারণা করছে পুলিশ। একই সাথে নিহত চালকের আদি পরিচয় নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, নিহত আব্দুর রহমানের বাড়ি মাগুরায় নয়, বরং তিনি যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের ইব্রাহিম গাজীর ছেলে।
বুধবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজার সংলগ্ন ক্ষ্যাদাপাড়া মোড় এলাকা থেকে যশোর ট-১১-১৩৪৬ নম্বরের একটি মালবাহী ট্রাকের কেবিনের ভেতর থেকে তাঁর গলিত ও নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, বিকেলে লাশ উদ্ধারের প্রাথমিক অবস্থায় নিহতের পকেটে থাকা কোনো তথ্যের সূত্রে তাঁর বাড়ি মাগুরা জেলার আড়পাড়া ভাবা হলেও, পরবর্তীতে পুলিশি নিখুঁত ইনভেস্টিগেশন ও ট্রাকের (যশোর ট-১১-১৩৪৬) মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নিহত চালক আব্দুর রহমানের আসল বাড়ি যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামে।
একই সাথে মরদেহের সুরতহাল ও ট্রাকের ভেতরের সামগ্রী ওলটপালট দেখে পুলিশের ধারণা, গত দুই-তিন দিন আগে নির্জন সড়কের পাশে ট্রাকটি থামিয়ে কোনো পেশাদার আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী বা অজ্ঞানপার্টি চক্র চালক আব্দুর রহমানকে কেবিনের ভেতরেই শ্বাসরোধে বা বিষাক্ত কিছু খাইয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর ঘাতকেরা তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ট্রাকের মূল্যবান কাগজপত্র ও মালামাল লুট করে কেবিনে লাশ ফেলে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি বা লক আটকে চম্পট দেয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “মরদেহ থেকে তীব্র উৎকট দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্পষ্ট যে অন্তত ৩ দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যেহেতু নিহতের পরিচয় এখন নিশ্চিত এবং ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিনতাই ও মার্ডার বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, তাই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এই রোমহর্ষক ঘটনার জট খুলতে এবং ঘাতক চক্রকে সনাক্ত করতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও পিবিআই (PBI) ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। যশোর থেকে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার অলরেডি কালীগঞ্জ থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

