স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় পূর্ব শত্রুতা ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নওয়াপাড়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নওয়াপাড়া স্টেশন বাজার এলাকার একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— নওয়াপাড়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতা (৪০), রাজু (৩৫) এবং অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম (৪১)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধ ও মাদক সংক্রান্ত কোন্দলকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র যুবক দেশীয় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্টেশন বাজারের ওই ব্যবসায়িক অফিসে অতর্কিত হানা দেয়। অভিযোগ উঠেছে, রুহুল আমিন, কালা মানিক, ইউসুফ আলী ও মানুসহ ১০-১২ জনের একটি চিহ্নিত দল এই বর্বরোচিত হামলায় সরাসরি অংশ নেয়।
হামলাকারীরা অফিসে ঢুকেই অর্তকিতভাবে কোপাতে ও পিটাতে শুরু করে। এতে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতার বাম হাতের কব্জিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ও গুরুতর জখম হয়। এছাড়া রাজুর পায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ লাগে এবং উপজেলা বিএনপি সদস্য সাইফুল ইসলাম লাঠিপেটা ও কিল-ঘুষিতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিন বা কালা মানিক চক্রের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভয়নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। এই জঘন্য হামলার সাথে জড়িত ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

