দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ৩ পাড়ার মানুষের ‘গলার কাঁটা’!

দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ৩ পাড়ার মানুষের ‘গলার কাঁটা’!

রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) থেকে ফিরে।। -১ জুন -২০২৬ সোমবার

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের অচিন্ত্যপুর লস্কারপাড়া (পশ্চিম পাড়া) মসজিদ থেকে গ্রামের মাঝখান দিয়ে বটতলা পর্যন্ত বিস্তৃত মাত্র দেড় কিলোমিটারের একটি কাঁচা রাস্তা এখন স্থানীয় হাজারো এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বর্তমানে তিন পাড়ার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থেই এক “গলার কাঁটা”য় পরিণত হয়েছে। আধুনিকায়নের এই যুগেও সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটির কঙ্কালসার দশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদাসীনতাকেই বারবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার আশপাশেই গড়ে উঠেছে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এই এলাকার তিনটি পাড়ার প্রায় তিন শতাধিক সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এই একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহার করে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তাটি কাঁচা ও মাটির হওয়ায় বছরের প্রায় বারো মাসই এখানে কাদা-পানি জমে একাকার হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে তো বটেই, বছরের অন্য যেকোনো সময়ে সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী ও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। হাঁটুপানি আর চটচটে কাদার কারণে এই রাস্তা দিয়ে রিকশা, ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এর ফলে গ্রামের কোনো মুমূর্ষু বা জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, বিয়ে বা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের যাত্রী আসা-যাওয়া কিংবা মোটরবাইক নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করাও চরম কষ্টকর এক যুদ্ধের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে এই কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ক্ষোভ ও তীব্র দুঃখ প্রকাশ করে জানান, চারদিকের এত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের এই যুগেও আমাদের মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তার জন্য যুগের পর যুগ ধরে চরম অবহেলা সহ্য করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের বাইরে বের হওয়ার বা পায়ে হেঁটে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। কোমলমতি ছেলেমেয়েরা কাদার ভয়ে ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় ও জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। তিন পাড়ার ভুক্তভোগী মানুষের দীর্ঘদিনের এই কষ্ট চিরতরে লাঘবে এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যেন অতি দ্রুত এই মরণফাঁদ রাস্তাটি পরিদর্শন করে পাকা রাস্তা হিসেবে নির্মাণের প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন—এটাই এখন শৈলকুপার অচিন্ত্যপুরবাসীর প্রধান ও একমাত্র দাবি। ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *