রফিক মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদক,কোটচাঁদপুর ( ঝিনাইদহ:) থেকে।। ৯ মে -২০২৬
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর মডেল থানায় কর্মরত এএসআই গোলাম মোরশেদের বিরুদ্ধে অন্য জেলার একটি মামলার তদন্তের অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলার ভয় দেখানো এবং চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত চার ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ৩৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার একটি মামলার আসামিদের নাম-ঠিকানা শনাক্তের জন্য কোটচাঁদপুর থানায় একটি তদন্ত আসে। সেই তদন্তের দায়িত্ব পান এএসআই গোলাম মোরশেদ। দায়িত্ব পাওয়ার পরই তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে নিরীহ লোকজনকে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করতে শুরু করেন। ভুক্তভোগী ইসরাফিল হাসান ইছা জানান, তাকে ছিনতাই মামলার আসামি করা হয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। নিরুপায় হয়ে শেষ সম্বল ছাগল বিক্রি করে তিনি ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে জানতে পারেন ওই মামলায় তার নামই নেই।
একইভাবে গালীমপুর গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রীর কাছ থেকে ভালো রিপোর্টের কথা বলে ৫ হাজার টাকা, জালালপুর গ্রামের নাসির মেম্বারের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা এবং রেজাউল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চারজনের কাছ থেকে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত এএসআই মোরশেদ অবশ্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কেবল মামলার প্রয়োজনে আসামিদের শনাক্ত করতে গিয়েছিলেন।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) জানান, তিনি এই স্টেশনে নতুন যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ ও তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের নামে এমন ‘ওপেন সিক্রেট’ অর্থ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগীরা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।
