স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
শেরপুরের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী লুবানা (১২)। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। কিন্তু অবুঝ মনে বাসা বেঁধেছিল এক গভীর অভিমান—তার মনে হতো মা-বাবা তাকে হয়তো একটু কম ভালোবাসেন। এই সামান্য অভিমান থেকেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ‘ভালোবাসা বাড়ানোর’ উপায় খুঁজতে গিয়ে লুবানা শিকার হলো এক দুর্ধর্ষ প্রতারক চক্রের। মা-বাবার ভালোবাসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক টিকটকার ভণ্ড কবিরাজ।
লুবানা টিকটকে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামের এক তান্ত্রিকের ভিডিও দেখে প্রলুব্ধ হয়। ইমোতে শুরু হয় যোগাযোগ। ভণ্ড কবিরাজ তাকে আশ্বস্ত করে, বিশেষ কিছু ঝাড়ফুঁক আর সামগ্রী কিনলে মা-বাবার অগাধ ভালোবাসা পাবে সে। এই ফাঁদে পা দিয়ে লুবানা গত ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং ঘরের আলমারি থেকে পরিবারের গচ্ছিত ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার কবিরাজ চক্রের হাতে তুলে দেয়।
টাকা ও স্বর্ণ নেওয়ার পরও কবিরাজের চাহিদা শেষ হয়নি। সবশেষে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করলে লুবানা বিকাশের দোকানে যায়। এত অল্প বয়সী মেয়ের বড় অঙ্কের লেনদেন দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। তিনি লুবানার বাবাকে ফোন করলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। কিশোরী মেয়ের এই কাণ্ড শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান ব্যবসায়ী বাবা সাইদুর রহমান। ১৭ মার্চ তিনি শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পেয়ে মাঠে নামে জামালপুর পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুর থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলাম নামের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মূল হোতা মনির হোসেনকে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, মনিরের বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।
লুবানার বাবা সাইদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “আমার মেয়েটা ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে গিয়েছিল। মা-বাবার একটু মনোযোগ পাওয়ার আশায় সে এত বড় বিপদে পড়বে ভাবিনি।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নজরদারি না বাড়ালে এমন ‘ডিজিটাল তান্ত্রিকদের’ কবলে পড়ে আরও অনেক পরিবার নিঃস্ব হতে পারে। ছবি-সংগৃহীত।


