স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুরে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক বিকিকিনি এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে, মামুন এবং তার স্ত্রী লিজার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে তারা একটি শক্তিশালী “মাদকের নেটওয়ার্ক” গড়ে তুলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী ফজলু ব্রাদার্সের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন মামুন-লিজা দম্পতি। মামুন উক্ত এলাকার ফল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের বাসায় গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত, এমনকি দিনের বেলাতেও প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে বহিরাগত নারী-পুরুষের নিয়মিত যাতায়াত দেখা যায়। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, মামুন-লিজা দম্পতির বাসায় নিয়মিত মাদকদ্রব্য বিক্রি,সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তাদের বাসা কার্যত মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঝুমঝুমপুর এলাকাবাসীর অভিযোগের পাশাপাশি জনৈক এক বিজিবি সদস্য অভিযোগ করেন,তার মেয়েকে মারধরের ঘটনায় পুলিশকে জানানো হলেও ঘটনাস্থলে এসে রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি একাধিকবার বাড়ির মালিক ফজলু ব্রাদার্সের ছেলে রাজুকে জানানো হলেও তিনি কেবল আশ্বাস দিয়ে গেছেন; তবে প্রায় এক বছরেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝুমঝুমপুর এলাকার একাধিক নারী-পুরুষ জানান, মামুন-লিজা দম্পতি পূর্বে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিকবার বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। নতুন এলাকায় গিয়েও তারা একই অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী জানান,আশেপাশে কয়েকটি কোচিং সেন্টার থাকার কারণে সেখানেও স্কুলের ছেলেমেয়েরা পড়তে যেতে সাহস পাচ্ছে না। কারণ ওই বিল্ডিং-এর গলিতে মাদকসেবীদের পদচারণা প্রতিনিয়তই লক্ষ্য করা যায়। এসব বিষয়ে ফজলু ব্রাদার্সের মালিকের পুত্র রাজুকে বিল্ডিং-এর ভাড়াটিয়ারা কয়েক দফা অভিযোগ করেও মামুন লিজা দম্পতিকে ভাড়া বাসা থেকে নামাতে পারেনি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে মাদক কারবারি মামুনের সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতেই খিস্তিখেউড় করে উঠেন। তিনি গালিগালাজ করে অভিযোগ দাতার নাম পরিচয় জানতে চান। এরপর নিজেই বলেন, “যারা অভিযোগ দিয়েছে, তাদের এসে মাদক সেবন করে যেতে বলেন।” তিনি নিজেই প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন,”দাঁড়ান আমি দেখছি।”এই বলে তাকে হুমকিও দেন।
এই বিষয়ে ফজলুর ব্রাদার্সের মালিকের ছেলে রাজুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “মামুন লিজা দম্পত্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ওদের বহুবার বাসা ছাড়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও বাসা ছাড়েনি। মানুষজনের সাথে বিশ্রী ভাষায় কথা বলে। বাধ্য হয়ে একজন ফল ব্যবসায়ী নেতার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি চলতি মাস সময় চেয়েছেন। মামুন লিজা দম্পতির বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নিক এটাই প্রত্যাশা।”
এ বিষয়ে যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান বলেছেন, “অভিযোগ সত্য হলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।” ছবি সংগৃহীত।

