স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাংলাদেশের যেকোনো গণতান্ত্রিক ও ঐতিহাসিক আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজ সবসময় অত্যন্ত সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে নারীদের অদম্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে বহুগুণ গতিশীল করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেছেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিকেলে যশোর শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী’র বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সাজেদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালিকা মাসুমা পারভীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিক, ইসলামী ছাত্রীসংস্থার জেলা সভানেত্রী সুফিয়া খাতুন এবং জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী সালমা আক্তার আশা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রীরা সভায় বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে মায়েরা তাদের সন্তানদের রাজপথে নামার প্রেরণা জুগিয়েছেন একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আশায়। ছাত্র ও তরুণদের পাশাপাশি অসংখ্য ছাত্রী পুলিশের লাঠিচার্জ ও প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথে অনড় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই আন্দোলনে যেসব বীর নারীরা শহীদ ও আহত হয়েছেন, জাতি তাদের চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।” তিনি আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি আদর্শ কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে নারী সমাজকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে, জেলা পরিষদের অনুষ্ঠান শেষে সোমবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড়ে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে ‘জুলাই শহীদ দিবস ও গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক অপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্দিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব জাতির সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে ধরে রাখতে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করতে হলে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ, সুশাসন ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিক, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আশরাফ আলী এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল হক। আলোচনা পর্ব শেষে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত, চিকিৎসাধীন আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং সামগ্রিকভাবে দেশ ও জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

