স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় বাড়ির পাশে কন্যাসন্তানকে সাথে নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন এক টেইলার্স ব্যবসায়ী। শুক্রবার সকালে ২-৩ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ছোট্ট মেয়ের সামনেই মো. আজম (৩৭) নামের ওই ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। উপজেলার মেখল ইউনিয়নের খলিফাপাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আজম মেখল খলিফাপাড়া এলাকার মৃত ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক কারিগর (টেইলার্স দোকানি) ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক আটটার দিকে আজম তাঁর অবুঝ কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি জলাশয়ে শখের বশে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরা অবস্থায় হঠাৎ সেখানে ওত পেতে থাকা ২-৩ জন যুবকের সাথে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁর তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই যুবকরা উত্তেজিত হয়ে আজমকে লক্ষ্য করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করে। আজম আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে তাঁর বাড়ির পেছনে চলে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্বৃত্তরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় বাবার ওপর এমন নৃশংস হামলা দেখে পাশে থাকা ছোট্ট মেয়েটি চিৎকার ও কান্না শুরু করলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে মেয়ের চিৎকার ও শোরগোল শুনে আশপাশের লোক ও স্বজনরা দ্রুত ছুটে এসে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় আজমকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে মাছ ধরার মতো একটি সাধারণ মুহূর্তে মেয়ের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো হাটহাজারী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নৃশংস। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার নেপথ্যে পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”ছবি সংগৃহীত।

