গাছে বেঁধে মারধর ও গলা কেটে হত্যা!

গাছে বেঁধে মারধর ও গলা কেটে হত্যা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাগুরা:

মাগুরা সদর থানা এলাকায় নিখোঁজের তিন দিন পর কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোর সুমন মোল্যা (১৬) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। মাত্র একটি মোবাইল ফোন বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে সুমনকে পিটিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​ঘটনার শুরু গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে। ওইদিন সুমন তার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল বিকেলে মাগুরা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মিরপাড়া এলাকায় জনৈক আয়নাল মোল্যার মাছের ঘের সংলগ্ন কলাবাগানে একটি অর্ধগলিত ও বিকৃত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করলে সুমনের পরিবার পরনের কাপড় দেখে নিশ্চিত করে যে এটিই নিখোঁজ সুমন।

মাগুরার পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একে একে বেরিয়ে আসে খুনিদের পরিচয়। পুলিশ প্রথমে মাগুরা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো মেহেদী হাসান জিহাদ (২৪),মোঃ জুয়েল হোসেন (২৩),মোঃ শাকিব শেখ (১৯)।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি তারিকুল ইসলামকে (২৬) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এবং তার সহযোগী হৃদয় হোসেনকে (২৮) মাগুরার জুইতারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা খুনের যে বর্ণনা দিয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। আসামিরা জানায়, গত ৩১ মার্চ রাতে সুমন ও তার বন্ধুদের মধ্যে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা সুমনের মাথায় আঘাত করলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

​হত্যাকারীরা এখানেই থেমে থাকেনি। অচেতন অবস্থায় সুমনকে একটি গাছের সাথে বেঁধে তারা বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে সুমন নিস্তেজ হয়ে পড়লে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাতকরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে এবং নৃশংসভাবে তার শ্বাসনালী কেটে দেয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের কলাবাগানে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ শুরু থেকেই অত্যন্ত তৎপর ছিল। এই কু-কুলেস  হত্যাকাণ্ডের সফল রহস্য উদ্ঘাটন মাগুরা জেলা পুলিশের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *