খান জাহানের দীঘিতে কুমিরের হানার ৮ ঘণ্টা পর অবুঝ শিশুর লাশ উদ্ধার

খান জাহানের দীঘিতে কুমিরের হানার ৮ ঘণ্টা পর অবুঝ শিশুর লাশ উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (র.) মাজারের দীঘির সিঁড়ি থেকে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া সেই অবুঝ শিশু ফাতেমা আক্তার (৮) আর বেঁচে নেই। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা ও রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) ভোর সাড়ে চারটার দিকে দীঘির ঘাটের পাশ থেকেই ভাসমান অবস্থায় শিশুটির নিথর ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের নির্দিষ্ট মহিলা ঘাট এলাকায় গোসল করতে নামার সময় হঠাৎ একটি হিংস্র কুমির শিশুটিকে কামড়ে ধরে পানির গভীরে নিয়ে নিখোঁজ করে ফেলেছিল। নিহত ফাতেমা মাজার প্রাঙ্গণেই আশ্রয় নিয়ে থাকা এক অসহায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান ছিল এবং মায়ের সাথে মাজার এলাকাতেই বড় হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে গোসলের উদ্দেশ্যে দীঘির পানিতে পা রাখতেই কুমিরের অতর্কিত হামলার শিকার হয় শিশু ফাতেমা। তার চিৎকার শুনে মাজারের খাদেম ও স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা নিয়ে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গভীর রাত পর্যন্ত নিবিড় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখে। তবে রাতের আঁধারে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও ফাতেমার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে আজ ভোর সাড়ে চারটার দিকে দীঘির ঘাটের ঠিক পাশেই শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে কূল থেকে ফাতেমার নিথর দেহটি উদ্ধার করা হলে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত সকলের চোখে পানি চলে আসে এবং তার পাগলপ্রায় প্রতিবন্ধী মায়ের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ জোহরের নামাজের পর মাজার প্রাঙ্গণেই ফাতেমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে মাজারের নির্ধারিত সাধারণ গণকবরেই এই নিষ্পাপ শিশুটিকে চিরনিদ্রায় শায়িত বা দাফন করা হবে। ঐতিহাসিক এই দীঘির পাড়ে এমন মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো মাজার এলাকায় এখনো গভীর শোকের ছায়া নেমে আছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *