স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক অবুঝ কিশোরীকে ফুসলিয়ে ও কৌশলে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন মিয়া (২২) নামে এক লম্পট তরুণকে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। শুধু তাই নয়, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী ওই তরুণের মাথা ন্যাড়া করে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুরো এলাকায় ঘুরিয়ে লাখাই থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ভাদিকারা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ধর্ষক সুমন মিয়া উপজেলার ভাদিকারা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।
লাখাই থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন আগে ভাদিকারা গ্রামের জিতু মিয়ার বখাটে ছেলে সুমন মিয়া ওই ১৩ বছরের কিশোরীকে একলা পেয়ে কৌশলে ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা, সামাজিক মর্যাদা এবং তীব্র ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী অসহায় কিশোরীটি প্রথম দিকে এই পৈশাচিক ঘটনাটি নিজের মনের মাঝেই গোপন রেখেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা কিশোরীটি একপর্যায়ে আজ বুধবার দুপুরের দিকে তার পরিবারের সদস্যদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ঘটনার অবিকল বর্ণনা দেয়। এই খবর মুহূর্তের মধ্যে গ্রামে জানাজানি হলে পুরো ভাদিকারা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরীর স্বজন ও স্থানীয় শত শত গ্রামবাসী একজোট হয়ে অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে নিজ গ্রাম থেকেই ধাওয়া করে আটক করে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে প্রথমে ব্যাপক মারধর ও গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সুমনের মাথা সম্পূর্ণ ন্যাড়া করে দেয় এবং গলায় নোংরা জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করে। পরবর্তীতে আজ পড়ন্ত বিকেলে তাকে লাখাই থানায় নিয়ে গিয়ে ডিউটি অফিসারের কক্ষে সরাসরি পুলিশে সোপর্দ করে ক্ষুব্ধ জনতা।
অভিযুক্ত তরুণকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণ সুমন মিয়াকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সুরক্ষামূলক ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি শরীফ আহমেদ আরও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত এবং নিখুঁত রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ টিম তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তবে এখানে স্পষ্ট করা ভালো, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের কঠোর বিচার যেমন হবে, ঠিক তেমনি কোনো অবস্থাতেই সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ওই তরুণের মাথা ন্যাড়া করা এবং গলায় জুতার মালা পরানোর মধ্য দিয়ে যারা আইন লঙ্ঘন করেছে, সেই বিষয়টিও পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে অপরাধী ও আইন লঙ্ঘনকারী উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এই ঘটনার পর থেকে ভাদিকারা গ্রাম জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।


