ক্রীড়া ডেস্ক:
বাংলাদেশ ক্রিকেটে যুক্ত হলো এক সোনালী ও গৌরবময় অধ্যায়। ক্রিকেট ইতিহাসের সব পরাশক্তিকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর তালিকায় বাকি থাকা একমাত্র নাম ‘অস্ট্রেলিয়া’কেও এবার বৃত্তপূরণ করল বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অজিদের ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের এক অবিস্মরণীয় নজির গড়ল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল স্রেফ এক দুঃস্বপ্ন। মিরপুরের উইকেটে টেনিস বলের মতো বাউন্স আর সুইংয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন বাংলাদেশের দুই স্ট্রাইক পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। এই দুই পেসারের তোপে রানের খাতা খোলার আগেই (০ রানে ৩ উইকেট) সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ৩ ব্যাটার।
তবে অষ্টম উইকেটে মারনাস লাবুশেন ও জাভিয়ের বার্টলেটের ১০৩ রানের প্রতিরোধে বিপর্যয় সামাল দেয় সফরকারীরা। বার্টলেটের ৫২ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন লাবুশেন। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৪২ ওভারে নামিয়ে আনা হলে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ২৭ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নেন ম্যাচসেরা মুস্তাফিজুর রহমান, আর তাসকিন আহমেদও শিকার করেন ৩টি উইকেট।
বৃষ্টি আইনের (DLS Method) মারপ্যাঁচে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২ ওভারে ১৯২ রান। রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওয়ানডাউন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে হারিয়ে চরম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে শুরুর সেই চাপকে জয় করেন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার এবং নাজমুল হোসেন শান্ত।
দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ৮৬ রানের এক দুর্দান্ত ও কার্যকরী জুটি, যা জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তবে ব্যক্তিগত ১২ রানের ব্যবধানে দুজনই কাঁটায় কাঁটায় ৪২ রান করে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। এরপর উইকেটরক্ষক লিটন দাস (২১) এবং প্রথম ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (১৫) দ্রুত বিদায় নিলে হুট করেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
দলীয় ১৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন মিরপুরের গ্যালারিতে কিছুটা শঙ্কা, ঠিক তখনই হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই তরুণের ঠাণ্ডা মাথার ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
অধিনায়ক মিরাজ দলের জয় নিশ্চিত করেন গ্যালারিতে এক দৃষ্টিনন্দন ছক্কা আছড়ে ফেলে। তিনি ২২ রানে অপরাজিত থাকেন এবং অন্যপ্রান্তে ৪০ রানের এক দায়িত্বশীল ও ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তাওহিদ হৃদয়। ফলশ্রুতিতে ৩৬ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই রূপকথার জয় পায় বাংলাদেশ।
এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ পকেটে পোরা বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়াকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার সুবর্ণ সুযোগ। আগামী ১৪ জুন একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। ছবি সংগৃহীত।

