ইয়াবার বাকি লেনদেন নাকি পুরনো শত্রুতা?

ইয়াবার বাকি লেনদেন নাকি পুরনো শত্রুতা?

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের বারান্দীপাড়া-মোল্লাপাড়ার আলোচিত ও একাধিক মামলার আসামি জিতু হত্যাকাণ্ডে রহস্যের নতুন জট খুলেছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত মাঠপাড়ার সুমন ওরফে ‘চোর সুমন’কে পুলিশ আটক করার পর বেরিয়ে এসেছে দুই পক্ষের বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর সব দাবি।

বুধবার গভীর রাতে নিজ এলাকা থেকেই অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেফতার করে যশোর সদর ফাঁড়ি পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে আসছে পরস্পরবিরোধী দুই গল্প। নিহত জিতুর স্বজনদের দাবি, এলাকায় সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার কারণেই জিতুকে শত্রু বানিয়ে ফেলা হয়। এরই জেরে সুমন, তার স্ত্রী, শরিফ, সুকুরন বেগম, তুষার ও রিপন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

অন্যদিকে, সুমন পক্ষের সূত্র থেকে পাওয়া দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে সুমনের মা সুকুরন বেগমের কাছে বাকিতে ৫ পিস ইয়াবা চান জিতু। সুকুরন বেগম বাকিতে মাদক বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জিতু বৃদ্ধা সুকুরন বেগমের গলা চেপে ধরে মারধর করেন। সুমনের স্ত্রী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। স্বজন ও গৃহবধূকে রক্ষায় সুমনসহ কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে জিতুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে, যা পরবর্তীতে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমানুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমনকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উন্মোচনে তদন্ত চলছে এবং অন্যান্য জড়িতদের ধরতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত জিতু এলাকার চিহ্নিত অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলা ছিল। তার অপরাধে অতিষ্ঠ হয়ে স্বয়ং তার নিজের পরিবারই কয়েকবার তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে সে আবারও অপরাধ জগতে ফিরে আসত। অন্যদিকে, আটক সুমন ও তার পুরো পরিবারের বিরুদ্ধেও এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।  ছবি সংগৃহীত।

 

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *