অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার যুবদল নেতা : রাতেই দল থেকে বহিষ্কার

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার যুবদল নেতা : রাতেই দল থেকে বহিষ্কার

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে কক্সবাজারের মাতামুহুরীর বদরখালী ইউনিয়ন যুবদলের গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আয়াত উল্লাহ হুমাইনীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) রাতে কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিয়াজী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং যুবদলের নীতিমালার পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আয়াত উল্লাহ হুমাইনীকে বদরখালী ইউনিয়ন যুবদলের গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল এবং সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিন জিসানের যৌথ নির্দেশনায় এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় কক্সবাজারমুখী একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান (অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা যুবদল নেতা আয়াত উল্লাহ হুমাইনী ও তাঁর অপর দুই সহযোগীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত বাকি দুজন হলেন— লক্ষ্মীপুর জেলার হোসাইন আহমেদ (৪২) ও ময়মনসিংহ জেলার আসাদুজ্জামান।

মহাসড়কে দিনদুপুরে প্রাইভেট কার থেকে যুবদল নেতাসহ অস্ত্র উদ্ধারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে (ভাইরাল) জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে যুবদল কর্তৃপক্ষ হুমাইনীর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

লোহাগাড়া থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গতকালই আসামিদের যথাযথ পুলিশি পাহারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের চালান বা কোনো বড় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে তারা এই অস্ত্র বহন করছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *