স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানাকে ঘিরে একদিকে চলছে প্রতিবাদের ঝড়, অন্যদিকে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক তদন্ত। বুধবার (৬ মে) সকালে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, একই দিনে কেন্দ্রীয় যুবদল তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে এবং আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদকে জড়িয়ে মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানের যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি দাবি করেন, দলের ভেতরের একটি ‘ঘাপটি মারা’ স্বার্থান্বেষী মহল ও বহিষ্কৃত নেতারা ঈর্ষান্বিত হয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই মিথ্যা তথ্যের ফলে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা হতাশ হচ্ছেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের রেশ কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় যুবদলের এক চিঠিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এক নির্দেশে তিন নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্তের আওতায় থাকা নেতারা হলেন— ১. অ্যাডভোকেট ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল (সভাপতি, মাগুরা জেলা যুবদল) ২. আনসারুল হক রানা (সদস্য সচিব, যশোর জেলা যুবদল) ৩. শহীদুল ইসলাম শহীদ (যুগ্ম আহ্বায়ক, যশোর শার্শা উপজেলা যুবদল)
কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন রুমন এবং সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানভীর হাসান সোহেল-কে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন বাবু, অধ্যাপক আমিনুর রহমান মধুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানালেও কেন্দ্রীয় তদন্তের সিদ্ধান্তে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সবার নজর আগামী ৭ দিনের তদন্ত রিপোর্টের দিকে। ছবি সংগৃহীত।


