স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় মাদকের বিস্তার রোধ ও যুবসমাজকে মরণনেশার হাত থেকে রক্ষা করতে তীব্র সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়, যশোর। গত সোমবার (৬ জুলাই) সকালের দিকে যশোর শহরের কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। এই অভিযানে ৬০০ পিস অবৈধ ব্যথানাশক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৭০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় সোমবার সকাল ৮:০০ ঘটিকার সময় কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়। ডিএনসি’র উপ-পরিদর্শক মোছাঃ রাফিজা খাতুনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়াস্থ আসামি মোঃ নয়ন হোসেনের (২৩) নিজ বসতঘরে হানা দেয়। এ সময় নয়নকে আটক করে তার ঘর তল্লাশি করে তোশকের নিচ থেকে ৬০০ পিস অবৈধ মাদক হিসেবে ব্যবহৃত ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নয়ন বাহাদুরপুর গ্রামের মোঃ আজিজুর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মোছাঃ রাফিজা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এর ঠিক এক ঘণ্টা পর সকাল ৯:১০ ঘটিকায় দ্বিতীয় সফল অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএনসি’র অপর উপ-পরিদর্শক মদন মোহন সাহা। তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি দল কোতোয়ালি মডেল থানাধীন পূর্ব বারান্দী নাথপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে আসামি মোঃ রেজাউল ইসলামের (৪০) নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৭০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয় এবং রেজাউলকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউল ইসলাম ওই এলাকার মৃত মকছেদ আলীর ছেলে। উদ্ধারকৃত স্পিরিটগুলো মূলত নেশা জাতীয় পানীয় তৈরিতে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মদন মোহন সাহা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় দ্বিতীয় মামলাটি রুজু করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, যশোর-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও রেক্টিফাইড স্পিরিট খুচরা ও পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করে আসছিল। মাদক ও নেশার করাল গ্রাস থেকে যশোরকে মুক্ত করতে এবং চোরাকারবারিদের মূল নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে ডিএনসি’র এমন ঝটিকা, গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে যশোর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

