২০০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’

২০০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

প্রথমে চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসার কথা থাকলেও নাটকীয়ভাবে গতিপথ পরিবর্তন করেছে মহাশক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়টি এখন দিক বদলে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে তীব্র বেগে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টি, ভয়াবহ ভূমিধস এবং বন্যার আশঙ্কা করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও ক্ষতিকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) ভোরের দিকে টাইফুন বাভি তাইওয়ানের কাছ দিয়ে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এ সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। তবে সামগ্রিকভাবে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার প্রশস্ত এই টাইফুনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ১৯৮৭ সালের পর এই অঞ্চলে আঘাত হানতে যাওয়া এটিই আকারে সবচেয়ে বড় টাইফুন।

বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাকুওয়েদার’-এর আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে ঝড়ের তীব্রতা কিছুটা কম মনে হলেও, শুক্রবার থেকে আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত জাপানের উপকূলে আঘাত হানার সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সংহারী অবস্থায় থাকবে।”

বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ঝড়ের তীব্রতা ও আকস্মিক গতিপথ পরিবর্তনের হার দিন দিন বাড়ছে। এ বছর ‘এল নিনো’র সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। টাইফুনটি প্রথমে চীন ও তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির পাশাপাশি প্রায় ২৯ হাজার সেনা প্রস্তুত রেখেছিল তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে গতিপথ পরিবর্তনের কারণে তাইওয়ান সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও শুক্রবার শেষ রাত থেকে সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। সতর্কতাস্বরূপ তাইপেইয়ের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আগামীকালের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ঝড়টি মোড় নেওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সুরক্ষিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান সংস্থাগুলো এই অঞ্চলের ডজনখানেক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে।

পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ ‘ইশিগাকি’–তে বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সুপারমার্কেটগুলো থেকে শুকনো ও টিনজাত খাবার ইতিমধ্যেই প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক বিচ, উপকূলীয় পার্ক এবং স্থানীয় ফেরি টার্মিনালগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর উপকূলের বাসিন্দাদের অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইন্টারনেট থেকে ছবিটি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *