স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে র্যাব-৮, বরিশাল-এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল দুটি পৃথক স্থানে সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ১৪৮০ পিস ইয়াবা এবং মোট ৪ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন পেশাদার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) দিনগত রাতে এবং সকালে বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযানগুলো চালানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানাধীন ১৪ নম্বর নিয়ামতি ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায়। সেখানে নাজমুল শিকদার (২৬) নামের এক মাদক কারবারির বাড়িতে হানা দেয় র্যাব। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নাজমুলের শোবার ঘরের শোকেসের ওপর রাখা একটি প্লাস্টিকের বয়াম থেকে আটটি জিপার ব্যাগে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা সর্বমোট ১৪৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নাজমুল টেংরাখালী গ্রামের রুস্তম শিকদারের ছেলে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত নাজমুলকে ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আভিযানিক দলটি একই দিন সকালে বাকেরগঞ্জের রুনশী গ্রামে অপর মাদক কারবারি মো. দেলোয়ার হোসেনের (৪৫) বাড়িতে অভিযান চালায়। দেলোয়ারের শয়নকক্ষের খাটের নিচে সিমেন্টের প্যাকেটে কসটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত দেলোয়ার ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানাধীন গোত্রা গ্রামের মহান হাওলাদারের ছেলে।
এদিকে, আরেকটি পৃথক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৮ এর একই আভিযানিক দল ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানাধীন গোচরা এলাকায় মো. রিপন হাওলাদার (৩৪) নামের এক ব্যক্তির বসত বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় রিপনকে আটক করার পর তার শয়নকক্ষের খাটের নিচে কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় আরও একটি বড় গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ওজন ২ কেজি। অভিযুক্ত রিপন হাওলাদার গোচরা গ্রামের মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।
র্যাব-৮, বরিশাল জানিয়েছে, জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আলামতসহ আসামি নাজমুল ও দেলোয়ারকে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানায় এবং রিপন হাওলাদারকে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে এবং উগ্রবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র্যাবের এমন কঠোর ও আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

