সৌদির ভুয়া ভিসায় ৬ লাখ টাকা প্রতারণা : বাঘারপাড়ার জসিমের ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

সৌদির ভুয়া ভিসায় ৬ লাখ টাকা প্রতারণা : বাঘারপাড়ার জসিমের ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের আকর্ষণীয় চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় জসিম উদ্দীন নামের এক প্রতারককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত জসিম উদ্দীন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বড় খুদড়া গ্রামের বন্দে আলী বিশ্বাসের পুত্র।

আদালতের নথিসূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম উদ্দীন নিজের আসল নাম গোপন করে নিজেকে ‘শামীম’ পরিচয়ে প্রকাশ করেন। এই ভুয়া পরিচয়ে তিনি চৌগাছা উপজেলার বাসিন্দা আবু বক্কারকে সৌদি আরবে একটি ভালো মানের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। প্রবাস যাত্রার খরচ বাবদ গত ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে নগদ এবং বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগী আবু বক্কার কাছ থেকে সর্বমোট ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮২৫ টাকা হাতিয়ে নেন জসিম।

টাকা নেওয়ার পর আবু বক্কারকে বিদেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না করে জসিম উদ্দীন উল্টো সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী যুবক কোনো উপায়ে আসামির সন্ধান পেয়ে নিজের কষ্টের টাকা ফেরত চাইলে, জসিম টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

কোনো উপায় না পেয়ে প্রতারণার শিকার আবু বক্কার ন্যায়বিচারের আশায় যশোরের আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা প্রতারণা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী ব্যবস্থাপনা আইনের অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য করেন। এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে মোট তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম উদ্দীনকে কড়া পুলিশি পাহারায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *