স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে আরও একবার নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ধবলধোলাইয়ের (হোয়াইটওয়াশ) গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের মাটিতে তাদের ডমিনেন্ট করার পর, এবার নিজেদের ঘরের মাঠেও পাকিস্তানিদের হোয়াইটওয়াশ করার অবিস্মরণীয় নজির গড়লো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বুধবার (২০ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বিশাল ও রোমাঞ্চকর ব্যবধানে পরাজিত করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই রাজকীয় জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এক সোনালী অধ্যায় রচনা করলো টাইগাররা।
৪৩৭ রানের পাহাড়সম ও প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান তুলেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩টি উইকেট, অন্যদিকে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২০ রান।
পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই রিজওয়ানের একটি সহজ ক্যাচ স্লিপে মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই জীবন পাওয়ার পর অষ্টম উইকেটে দ্রুত রান তুলে ওভারপ্রতি ছয়ের ওপর গড়ে মারকুটে ব্যাটিং করে পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সাজিদ। পাকিস্তানিরা যখন জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান বাঁহাতি স্পিন জাদুকর তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে (২৮) আউট করে নিজের ৫ উইকেট (ফাইফার) পূর্ণ করেন তাইজুল।
সাজিদের বিদায়ের পর পরের ওভারেই বল হাতে চরম আঘাত হানেন পেসার শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা এবং ১৬৬ বলে ৯৪ রানের এক চোখধাঁধানো প্রতিরোধ গড়া মোহাম্মদ রিজওয়ানকে গালিতে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান শরিফুল। রিজওয়ানের আউটের পরই মূলত পাকিস্তানের পরাজয় ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ব্যাটার হিসেবে খুররম শেহজাদকে আউট করে ইনিংসে নিজের ৬ষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন ম্যাচ হিরো তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে অলআউট হয়।
এর আগে চতুর্থ দিন থেকেই পাকিস্তানি ব্যাটারদের ওপর ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে (৬) ফেরানোর পর ইনফর্ম সৌদ শাকিলকেও (৬) লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ বানাতে বাধ্য করেন রানা। মাঝপথে বাবর আজম (৪৭) ও অধিনায়ক শান মাসুদ (৭১) ৯২ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়লেও তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণিতে বাবর ও শান দুজনেই সাজঘরে ফেরেন। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে সালমান আলী আগা (৭১) ও হাসান আলীকে (০) ফিরিয়ে জয়ের সুবাস এনে দিয়েছিলেন এই তাইজুলই।
উল্লেখ্য, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ও নান্দনিক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৩৯০ রানের পাহাড় গড়েছিল বাংলাদেশ। যার ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ৪৩৭ রান। বল হাতে তাইজুলের ৬ উইকেট, নাহিদ রানা ও শরিফুলের দুর্দান্ত পেস এবং মুশফিকের ব্যাটিং— সব মিলিয়ে সিলেট টেস্টে এক নিখুঁত টিম গেমের মাধ্যমে এশিয়ার পরাশক্তি পাকিস্তানকে আরও একবার হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো বাংলাদেশ। খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পুরো সিলেট স্টেডিয়ামসহ দেশজুড়ে টাইগার ভক্তদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।ফাইল ছবি।

