শৈলকুপায় সাংবাদিককে ‘চা খাওয়ার’ দাওয়াত দিয়ে নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার!

শৈলকুপায় সাংবাদিককে ‘চা খাওয়ার’ দাওয়াত দিয়ে নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার!

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা:

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামের এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ১৪ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার পর একটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। নিহতের আপন নাতি ও মামলার বাদী খোদ এই গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করলেও পুলিশ সাংবাদিক আশরাফুলকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

আশরাফুল ইসলাম ‘বাংলা এডিশন’-এর ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি এবং ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী শান্তা খাতুন জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে শৈলকুপা থানার এসআই তরিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আশরাফুলকে বড়দা ব্রিজ এলাকায় ডেকে আনেন। থানার ওসি তাঁর সাথে চা খাবেন বলে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা তাঁকে কারণ ছাড়াই আটকে রাখা হয়।

আশরাফুল ইসলামের বাবা আক্কাচ আলী ও মামলার বাদী হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, গত ২৩ এপ্রিল হত্যার শিকার মোহন শেখ ছিলেন সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতো দাদা। মামলার বাদী হারুন বলেন, “আমার বাবা হত্যার ঘটনায় আমার ভাতিজা আশরাফুল জড়িত নয়। সে সাংবাদিকতা করে জেলা শহরে থাকে। পুলিশ ষড়যন্ত্র করে আমার নিরপরাধ ভাতিজাকে ফাঁসিয়েছে।”

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, “একটি মামলায় সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত আদালতে খোঁজ নিয়ে জেনে নিন।” এজাহারে নাম না থাকার পরেও এবং বাদীর আপত্তির মুখেও এই গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একজন পেশাদার সংবাদকর্মীকে এভাবে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ঝিনাইদহের সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ‘আইনের অপপ্রয়োগ’ এবং ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে সাংবাদিক আশরাফুলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *