শার্শায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের নতুন রোডম্যাপ

শার্শায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের নতুন রোডম্যাপ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের সীমান্তবর্তী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শার্শা উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং চোরাচালানমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত শার্শা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক বিশেষ ও উচ্চপর্যায়ের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত ও হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন যশোর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ছাড়াও বর্তমান সময়ের বেশ কিছু স্পর্শকাতর সামাজিক ও অপরাধমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মানব পাচার রোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, উঠতি বয়সের কিশোর অপরাধ দমন, যেকোনো ধরনের নাশকতা নস্যাৎ এবং ফসলি জমি ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলন বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া মাদকের মরণকামড় এবং সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং চোরাচালানের সাথে জড়িত অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার পেছনে রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় খাটবে না। অপরাধ দমনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি এই সামাজিক ব্যাধিগুলো উপড়ে ফেলতে স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি এবং একই সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “শার্শাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং উপজেলার সামগ্রিক শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। অবৈধ মাটি উত্তোলন বা কিশোর অপরাধের মতো বিষয়গুলোতে এখন থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হবে।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে শার্শা থানা ও বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), বিজিবি’র প্রতিনিধি, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাঁদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। এই ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আইন-শৃঙ্খলার অগ্রগতির সুবাতাস বইবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *