লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের ঘুষ বাণিজ্যের চরম মাশুল!

লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের ঘুষ বাণিজ্যের চরম মাশুল!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার ২ নং লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চরম দায়িত্বহীনতা, অবহেলা এবং ই-সেবা শাখার ঘুষ বাণিজ্যের বলি হয়েছে ৭ বছরের এক শিশু। জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র সময়মতো হাতে না পাওয়ায় ঢাকার হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা ও সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়ে অবহেলায় মারা গেছে হার্টের ছিদ্র রোগে আক্রান্ত মাতৃহীন শিশু আলিফ।
শনিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু মৃত্যু হয়।

মৃত আলীফ হোসেন (৭) যশোর সদর উপজেলার খাজুরা লেবুতলা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল্লাহ ছেলে।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হার্টের ছিদ্র রোগে ভুগছিল শিশু আলিফ। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র। এই উদ্দেশ্যে প্রায় ৮ মাস আগে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের ই-সেবা শাখায় আবেদন করে আলিফের পরিবার। কিন্তু আবেদনের পর ই-সেবা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনদ দেওয়ার বিনিময়ে ১হাজার ৫শ টাকা ঘুষ দাবি করেন। কিন্ত হতদরিদ্র ও মাতৃহীন শিশুটির পিতার পক্ষে এককালীন ১হাজার ৫শত টাকা পরিশোধ করা অসম্ভব ছিল। পরবর্তীতে চরম অর্থকষ্টের মধ্যেও ধার-দেনা করে ১হাজাট টাকা জমা দেন তিনি। কিন্তু পুরো টাকা না দেওয়ায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের ই-সেবা শাখার অবহেলার কারণে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস তাকে ঘোরানো হয়। দীর্ঘ ৮ মাস ঘোরানোর পর অবশেষে গত ২৪ জুন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রটি দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে আলিফের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে।

আলিফের দরিদ্র পিতা আব্দুল্লাহর অভিযোগ, ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক অনুদানের আবেদন করতে চেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মে মাসের মধ্যে এই অনুদানের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রটি না থাকার কারণে মে মাসের মধ্যে আবেদনটি জমা দিতে ব্যর্থ হন অসহায় পিতা।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুন সনদপত্রটি হাতে পেলেও ততক্ষণে আলিফের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আর শেষ রক্ষা হয়নি। শনিবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি। আলিফের পরিবারের অভিযোগ, যদি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যথাসময়ে জন্ম সনদটি দেওয়া হতো, তবে মে মাসের মধ্যেই সরকারি অনুদান পাওয়া যেত। সেই অর্থ দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে সুচিকিৎসা করালে হয়তো আজ মাতৃহীন আলিফ বেঁচে থাকত। ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতি ও অবহেলাই তাদের সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে।
এই বিষয়ে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন খান বলেন, জন্ম সনদের বিনিময়ে টাকা দাবি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ পাইনি। যদি ইউনিয়ন ই-সেবা কেন্দ্র থেকে এ ধরনের কোন ঘটনা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডাক্তার আব্দুস সামাদ জানান, শিশুর হৃদয়ে ছিদ্র ছিল। যশোরের তার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সচেতনতাই রুখবে সামাজিক অপরাধ : যশোরে কোতোয়ালি ওসির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

গাঁজা ও প্রসাধন সামগ্রীসহ চোরাচালানি পণ্য আটক

চাচাতো ভাইয়ের কাঁচির আঘাতে যুবক আহত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

উপশহর বাদশাহ ফয়সল ইনস্টিটিউটে বিটিএইচ-এর 'পিয়ার লিডার' ক্যাম্পেইন

১০ জেলায় ২৫২৩ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ঝিনাইদহে নকলের দায়ে ২জন বহিষ্কৃত

তালাকের ক্ষোভে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ সাবেক স্ত্রীকে!

রঙ-বেরঙের ফুলে সেজেছে যশোর কারাপ্রাঙ্গণ

হাসিমপুর প্রাইমারি স্কুলে রোটারি ক্লাব অব যশোরের বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ চারা বিতরণ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *